শাব-এ বারাতের রাত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, কারণ আজ দেশের কোনো অঞ্চলে শাবান চাঁদ দেখা যায়নি। জাতীয় চাঁদ দেখার কমিটি এই সিদ্ধান্তটি বায়তুল মুকাররমের অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্রহণ করে। শাবান মাসের সূচনা ২১ জানুয়ারি থেকে হয়েছে, ফলে ১৫তম রাতটি শাব-এ বারাতের জন্য নির্ধারিত।
বৈঠকের আয়োজন ইসলামিক ফাউন্ডেশন করেছে এবং ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। কমিটির সদস্যরা একত্রে চাঁদ দেখার রিপোর্ট, আবহাওয়া তথ্য এবং উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ ফলাফল বিশ্লেষণ করেন। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে শাবান চাঁদ না দেখা নিশ্চিত হওয়ায় শাব-এ বারাতের রাতকে ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
চাঁদ দেখার প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট এবং স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং ইনস্টিটিউটের তথ্য সমন্বিত হয়। প্রতিটি সংস্থা নিজ নিজ পর্যবেক্ষণ ও ডেটা প্রদান করে, যা কমিটির সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের সমন্বিত পদ্ধতি দেশের মুসলিম জনগণের জন্য সঠিক ইসলামিক ক্যালেন্ডার নিশ্চিত করে।
শাবান মাসের সূচনা ২১ জানুয়ারি হওয়ায়, শাব-এ বারাতের রাত ১৫ দিন পর, অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি, ধর্মীয় ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। এই রাতটি মুসলিম সমাজে বিশেষ প্রার্থনা, কুরআন তিলাওয়াত এবং বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করা হয়।
শাব-এ বারাতের রাতে মুসলিমরা বিশেষ নামাজ আদায় করে, যা সাধারণ নামাজের চেয়ে দীর্ঘ এবং অতিরিক্ত রুকু ও সজ্জা নিয়ে গঠিত। পাশাপাশি কুরআন পাঠ, দোয়া এবং আত্মিক শুদ্ধিকরণের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এই আচার-অনুষ্ঠানগুলো পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা বাড়ায়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা দ্রুত জনগণকে জানাতে পদক্ষেপ নেয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মন্ত্রণালয় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে শাব-এ বারাতের রাতের তারিখ নিশ্চিত করে। ফলে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং ঘরোয়া পরিবেশে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।
শাব-এ বারাতের রাতের গুরুত্বের কারণে, দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ ইমামদের নেতৃত্বে নামাজের আয়োজন করা হবে। শহর ও গ্রাম উভয়ই এই রাতে ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত, যেখানে মানুষ পরিবারসহ একত্রিত হয়ে প্রার্থনা ও দোয়া করে।
শাব-এ বারাতের রাতের নির্ধারিত তারিখের ফলে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার সঠিকভাবে বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি এড়ানো যায়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।



