মরোক্কোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ আফ্রিকা কাপ ফাইনালে পেনাল্টি মিসের পর ক্ষমা প্রকাশ করেছেন এবং পুনরুদ্ধারের কঠিনতা স্বীকার করেছেন। এই ঘটনা রবাতের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত ম্যাচে ঘটেছে, যেখানে মরোক্কো ও সেনেগাল শূন্য-শূন্য স্কোরে অতিরিক্ত সময়ে পৌঁছেছিল। পেনাল্টি মিসের ফলে মরোক্কোর শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে।
দিয়াজের পেনাল্টি ছিল একটি প্যানেনকা শৈলীর চেষ্টারূপে, যা শেষের অতিরিক্ত সময়ে, ম্যাচের স্কোর শূন্য থাকাকালীন নেওয়া হয়েছিল। তবে শটটি সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডির গ্লাভসে গিয়ে আটকে যায়, ফলে পয়েন্টের সুযোগ হারিয়ে যায়। পেনাল্টি নেওয়ার মুহূর্তে স্টেডিয়ামের ভিড়ের মধ্যে উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছেছিল, কিন্তু শটের ব্যর্থতা তৎক্ষণাৎ চূড়ান্তের ফলাফলকে বদলে দেয়।
পেনাল্টি দেওয়ার আগে, সেনেগাল দলের কিছু খেলোয়াড় ভিআরএ (ভিডিও রিভিউ) পর্যালোচনার পর পেনাল্টি দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যায়। এই প্রতিবাদে দলটি আট মিনিটের বেশি সময়ের জন্য মাঠ ছেড়ে থাকে, যা ম্যাচের প্রবাহকে ব্যাহত করে। শেষ পর্যন্ত রেফারির সিদ্ধান্তে পেনাল্টি অনুমোদিত হয় এবং দিয়াজকে শট নিতে দেওয়া হয়।
সেনেগালের এই হঠাৎ পদত্যাগের জন্য আফ্রিকান ফুটবল সংস্থা (CAF) কঠোর নিন্দা প্রকাশ করেছে। সংস্থা জানিয়েছে যে ম্যাচের সময় কিছু খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার অগ্রহণযোগ্য আচরণকে তারা গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবেচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। CAF-এর এই বিবৃতি ম্যাচের পরপরই প্রকাশিত হয়, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের শৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি মিসের পর সরাসরি তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। “আমার আত্মা ব্যথা পাচ্ছে,” তিনি বলেন, “আপনাদের সকলের ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া আমি এই শিরোপার স্বপ্ন দেখতে পারতাম না।” তিনি যোগ করেন যে তিনি সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে হৃদয় থেকে ক্ষমা চেয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে এই আঘাত সহজে সেরে ওঠা সম্ভব নয়।
দিয়াজের কথায় তিনি ভবিষ্যতে আবার মরোক্কোর গর্বের কারণ হতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। “আমি নিজের জন্য নয়, আপনারা সবাইয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব, যাতে একদিন আবার আপনাদের গর্বের জন্য মাঠে দাঁড়াতে পারি,” তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। এই প্রতিশ্রুতি তার ভক্তদের মধ্যে আশা জাগিয়ে তুলেছে, যদিও শিরোপা হারানোর দুঃখ এখনও তীব্র।
মরোক্কোর ভক্তরা রাবাতের ঘরে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। পেনাল্টি মিসের পর স্টেডিয়ামের ভিড়ের মধ্যে নীরবতা ছড়িয়ে পড়ে, এবং কিছু ভক্তের চোখে অশ্রু দেখা যায়। তবে দিয়াজের ক্ষমা ও পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি তাদের মধ্যে নতুন উদ্যমের সঞ্চার করেছে, যা ভবিষ্যতে দলের জন্য ইতিবাচক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
অতিরিক্ত সময়ে, মরোক্কো শেষ পর্যন্ত শূন্য-শূন্য স্কোরে হেরে যায় এবং শিরোপা সেনেগালের হাতে চলে যায়। ম্যাচের সমাপ্তি রাবাতের ঘরে উপস্থিত ভক্তদের জন্য এক কঠিন মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তারা ঘরে ঘরে গর্বের স্বপ্ন দেখছিল। তবে ম্যাচের ফলাফলই শেষ, এবং উভয় দলের জন্য এটি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যাবে।
সেনেগালের পদত্যাগের ফলে সংস্থা কী ধরনের শাস্তি আরোপ করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে CAF ইতিমধ্যে তদন্তের কথা জানিয়েছে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে দলকে আর্থিক জরিমানা, ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা অথবা কোচ ও খেলোয়াড়দের উপর নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সংস্থার এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক ফুটবলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা।
মরোক্কোর ফুটবল সমিতি দিয়াজের ক্ষমা গ্রহণের পর তাকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে যে তিনি দেশের গর্বের জন্য আবার ফিরে আসবেন। একই সঙ্গে তারা সেনেগালের পদত্যাগের জন্য CAF-কে কঠোর শাস্তি আরোপের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ম্যাচের ন্যায়বিচার রক্ষা পায়। ভবিষ্যতে আফ্রিকা কাপের পরবর্তী পর্যায়ে উভয় দল কীভাবে প্রস্তুতি নেবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এই চূড়ান্ত ম্যাচের স্মৃতি দীর্ঘদিন পর্যন্ত উভয় দেশের ফুটবল ইতিহাসে খোদাই থাকবে।



