দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার একটি উদ্ধার দল মোজাম্বিকের গাজা প্রদেশে পাঠিয়েছে, যেখানে ইকুরহুলেনি পৌরসভার কাউন্সিলর আন্দিলে মঙ্গওয়েভু এবং চারজন সহযাত্রী বন্যা জলে হারিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনা ঘটেছে যখন দলটি দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে পর্যটন সফরে ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা দু’টি হেলিকপ্টার মোজাম্বিকের বন্যা-প্রভাবিত এলাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, যাতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা চালিয়ে যায়।
আন্দিলে মঙ্গওয়েভু, যিনি জোহানসবার্গের পূর্বে অবস্থিত ইকুরহুলেনি পৌরসভার একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি, তার সঙ্গে চারজন অন্য যাত্রী গাজা প্রদেশে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বন্যা জলে গাড়ি ডুবে যাওয়ার মুখোমুখি হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, গাড়ি হঠাৎ প্রবাহিত জলে আটকে গিয়ে ভাসতে থাকে, ফলে যাত্রীরা তৎক্ষণাৎ নিরাপদে বের হতে পারেনি।
মহামারী পর্যালোচনায় জানা গেছে, পাঁচজনের মধ্যে মাত্র একজনকে সনাক্ত করা হয়েছে এবং তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি চারজনের অবস্থান ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে স্থানীয় প্রশাসন তাদের সন্ধানে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চাপো এই বন্যা-প্রভাবিত সময়ে ড্যাভোসের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণ বাতিল করে দেশের নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোজাম্বিকের উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে, তবে দেশীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় মনোযোগ বাড়েছে।
সিরিল রামাফোসা উল্লেখ করেছেন যে, দুইটি হেলিকপ্টার আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত মোজাম্বিকের বন্যা-প্রভাবিত এলাকায় কাজ করবে, যাতে প্রয়োজনীয় সরবরাহ ও চিকিৎসা সেবা দ্রুত পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই সহায়তা শুধুমাত্র মানবিক নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
মোজাম্বিকের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা বহু সপ্তাহ ধরে চলমান, যার ফলে অবকাঠামো ধ্বংস, সড়ক ও সেতু ভেঙে পড়া এবং ১০০টিরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
বছরের এই সময়ে কেন্দ্রীয় ও উত্তর মোজাম্বিকের বৃষ্টিপাতের মৌসুম শুরু হয়েছে এবং দেশের বৃহৎ অংশে অতিরিক্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি বার্ষিক সাইক্লোন মৌসুমে প্রবেশ করছে, যা অতিরিক্ত বন্যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংস্থা (SADC) এই দুর্যোগে সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্পদ ভাগাভাগি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের পারস্পরিক সহায়তা দক্ষিণ আফ্রিকা ও মোজাম্বিকের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে।
অতীতের ২০২৩ সালে মালাউইতে ঘটিত বন্যা-প্রভাবিত পরিস্থিতি ও বর্তমান মোজাম্বিকের বন্যা তুলনা করা হলে দেখা যায়, উভয় ক্ষেত্রে সীমান্ত পারাপার সহায়তা ও আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রয়োজনীয়তা সমানভাবে উচ্চ। তবে মোজাম্বিকের বর্তমান অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকার সরাসরি সামরিক ও মানবিক সহায়তা একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রেসকিউ টিমের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে অবশিষ্ট বৃষ্টিপাতের অপ্রত্যাশিত প্রবাহ, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগের অভাব, যা দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজকে কঠিন করে তুলছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার সত্ত্বেও, ভূখণ্ডের জটিলতা ও বন্যার গভীরতা সীমিত করে তুলছে।
অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা দেশগুলো আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত সরবরাহ ও আর্থিক সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করা যায়। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, হেলিকপ্টার অপারেশন কমপক্ষে পাঁচ দিন পর্যন্ত চালু থাকবে, তারপরে পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত সম্পদ প্রয়োগ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, মোজাম্বিকের বন্যা-প্রভাবিত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এখনই অগ্রাধিকার। দক্ষিণ আফ্রিকার এই তৎপরতা কেবলমাত্র তাত্ক্ষণিক রেসকিউ নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও মজবুত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



