ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের শিশু পার্কে ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচার সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ গৃহীত হওয়ায় যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তার ওপর এই নীতির বাস্তবায়নের দায় অটল থাকবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গঠিত এই সনদে কোনো দলই দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে না।
সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সামনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের মূল উদ্দেশ্য কেবল প্রার্থী নির্বাচন নয়, বরং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার একটি সুযোগ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করা হবে।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার ছাত্রদের আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত, তাই জুলাই অভ্যুত্থান ও তরুণদের স্বপ্নের বিপরীতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি যুক্তি দেন, গণভোটই এই স্বপ্নের বাস্তবায়নের সরাসরি প্রতিফলন হবে এবং ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা উচিত।
ফরিদা আখতার বিশেষভাবে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা ভোটের কেন্দ্রে থাকলে গণভোটের বৈধতা ও অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে। এদিকে, উপস্থিত নারী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন এবং তিনি উপদেষ্টার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, জুলাই সনদ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, সকল রাজনৈতিক দলকে এই সনদ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিছু বিরোধী দলের নেতা, যদিও সরাসরি মন্তব্য করেননি, তবু তারা সভায় উপস্থিতি দিয়ে গণভোটের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। তাদের উপস্থিতি থেকে বোঝা যায়, সনদ বাস্তবায়নে সমন্বিত রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত।
উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে পারবে, যা ঐতিহ্যবাহী প্রতিনিধি গণতন্ত্রের সঙ্গে সমন্বয় ঘটাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের ফলাফলকে সম্মান করা এবং সনদে নির্ধারিত ধারাগুলোকে কার্যকর করা দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ভিত্তি।
এই সভা মূলত ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং গণভোটের প্রচারকেন্দ্রিক ছিল। উপস্থিত জনসাধারণকে ভোটের গুরুত্ব, ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন এবং ভোটের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, জুলাই সনদে নির্ধারিত কিছু মূল ধারা, যেমন মানবাধিকার রক্ষা, নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থা, এগুলোকে কার্যকর না করলে দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সকল স্তরে ত্বরিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সভা শেষে উপস্থিত সকলকে ভোটের দিন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে, ভোটের ফলাফলকে স্বচ্ছভাবে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। উপদেষ্টা বলেন, গণভোটের ফলাফলই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে এবং তা সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে জেলা প্রশাসন ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটার শিক্ষা কর্মশালা এবং ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। সকল রাজনৈতিক দলকে এই পরিকল্পনায় সহযোগিতা করতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ভোটের দিন কোনো বাধা না থাকে এবং গণভোটের ফলাফল সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।



