ঝিনাইদহের সদর উপজেলা, উদয়পুর এলাকায় সোমবার ভোরে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান চালু হয়। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের টহল দল লুট হওয়া টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড পুনরুদ্ধার করে এবং একাধিক মামলার আসামি মো. রুবেল হোসেনকে গ্রেফতার করে।
অভিযানটি রাতের অন্ধকারে শুরু হয় এবং টহল দল দ্রুত এলাকায় ঘুরে দেখার পর সন্দেহজনক বস্তুগুলো সনাক্ত করে। সেসব বস্তুতে টিয়ার গ্যাস গ্রেনেডের ছাঁচ ও সাউন্ড গ্রেনেডের মডেল দেখা যায়, যা পরে বিশ্লেষণে বাংলাদেশের পুলিশ ব্যবহৃত সরঞ্জামের সঙ্গে মিলে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বহু মামলা দায়ের হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি গত বছরের জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সঞ্চালিত প্রতিবাদ আন্দোলনের সময় সহিংস কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সেই সময়ে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সরঞ্জাম লুট হওয়ার অভিযোগও উঠে।
সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত টিয়ার গ্যাস গ্রেনেডটি পুলিশ ব্যবহৃত মডেলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই গ্রেনেডগুলো সম্ভবত জুলাই ২০২২-এ সংঘটিত প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর গুদাম থেকে হারিয়ে গিয়ে লুট হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা রুবেল হোসেনের অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করেছেন। তারা জানান, হোসেনের নাম বহুবার পুলিশ রেজিস্ট্রিতে দেখা যায় এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে হেফাজতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গৃহহিংসা, অবৈধ অস্ত্রধারণ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
সদর থানা ওয়ানসার অফিসার শামছুল আরেফিন এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সেনা অভিযানে উদ্ধারকৃত সব অস্ত্র ও উপকরণ নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সহায়ক হবে।
অধিক তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল হোসেনকে স্থানীয় থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো একত্রে বিচারাধীন হবে। আদালতকে বিষয়টি শীঘ্রই শোনার জন্য সময়সূচি নির্ধারণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রতিবাদে হারিয়ে যাওয়া সরঞ্জামের পুনরুদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধীর গ্রেপ্তারকে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতিমধ্যে তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে অন্যান্য লুট হওয়া সামগ্রী অনুসন্ধান শুরু করেছে।
সেনাবাহিনীর এই অভিযান স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে। উদয়পুরের বাসিন্দারা জানান, তারা এখন নিরাপদ বোধ করছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য কর্তৃপক্ষের তৎপরতা প্রশংসা করছেন।
আইনি দিক থেকে রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। পুলিশ ও সেনা একসাথে কাজ করে গ্রেনেডের উৎপত্তি ও লুটের পথ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে, যাতে দায়ী সকলকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া যায়।
অবশেষে, উদ্ধারকৃত টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেগুলো যথাযথভাবে পুলিশ স্টোরেজে রাখা হবে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং অন্যান্য অঞ্চলেও অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।



