ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) ঢাকা-১৩ ও বাগেরহাট-১ নির্বাচনী আসনে প্রার্থী না দাখিলের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলটি বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকের প্রতি সমর্থন জানাতে চায়। সিদ্ধান্তটি আজ প্রকাশিত একটি ঘোষণাপত্রে জানানো হয়।
দলটির যৌথ সচিব সাধারণ ও মুখপাত্র মাওলানা গাজি আতুর রহমান এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইএবি দুইটি আসনে তার প্রার্থীদের প্রত্যাহার করবে, যেখানে মামুনুল হক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দৌড়াচ্ছেন।
আতুরের মতে, এই পদক্ষেপটি মামুনুল হকের ইসলামী রাজনীতিতে করা ত্যাগ ও অবদানের প্রতি সম্মানসূচক। তিনি বলেন, দলটি তার ‘সত্যিকারের ত্যাগ’কে স্বীকৃতি দিয়ে এই রকম সমর্থন প্রদান করছে।
একই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে আইএবি কোনো যৌথ রাজনৈতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে না। দলটি ভবিষ্যতে কোনো জোটে যুক্ত হবে কিনা তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
যেসব আসনে আইএবি প্রার্থী দাখিল না করবে, সেখানে দলটি ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীদের সমর্থন করবে। সমর্থনের মানদণ্ড হবে আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন নিশ্চিত হয়।
মামুনুল হক, যিনি বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের আমীর, এই আসনে তার রাজনৈতিক প্রভাবকে শক্তিশালী করতে ইচ্ছুক। আইএবির এই সমর্থন তার নির্বাচনী প্রচারণায় অতিরিক্ত শক্তি যোগাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
আইএবির এই সিদ্ধান্তের ফলে দুইটি আসনে ভোটের গতিবিধি পরিবর্তিত হতে পারে। পূর্বে আইএবি ও খলাফত মজলিসের সমর্থকরা আলাদা আলাদা ভোট দিতেন; এখন একত্রিত সমর্থন উভয় দলের ভোটভাগকে একত্রিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দলটি উল্লেখ করেছে, প্রার্থীর নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তারা ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার নীতি মেনে চলবে। তাই, ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীদের সমর্থন মানে কেবল নামের ভিত্তিতে নয়, বরং তাদের নৈতিক ও ধর্মীয় মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল হবে।
আইএবির এই পদক্ষেপ পূর্বের নির্বাচনী পরিকল্পনা ও প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে দলটি বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দাখিলের পরিকল্পনা ও তার পরবর্তী পরিবর্তন সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে জানাচ্ছে।
ভবিষ্যতে আইএবি কীভাবে তার রাজনৈতিক কৌশল গঠন করবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে, বর্তমান অবস্থায় দলটি তার আদর্শিক ভিত্তি বজায় রেখে, নির্দিষ্ট আসনে সমর্থন প্রদানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পর, আইএবি নির্বাচনী কমিশনের কাছে প্রার্থীর প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নথি জমা দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আসনে ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীদের সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



