আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক পদে যুক্তরাজ্যের আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের মেয়াদ নবায়ন করা হয়নি। এই তথ্য ট্রাইব্যুনালের অফিসে সোমবার বিকেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে জানানো হয়।
ক্যাডম্যানকে ১৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে এক বছরের জন্য বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ ১৯ নভেম্বর ২০২৫ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সরকার প্রথমে মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিল, এবং ক্যাডম্যানও নিজে মেয়াদ বৃদ্ধি চেয়ে সরকারকে আবেদন করেছিলেন। তবে আইন মন্ত্রণালয় শেষ মুহূর্তে জানায় যে মেয়াদ শেষের দিনগুলোতে নতুন চুক্তি করা সম্ভব নয়।
টবি ক্যাডম্যান লন্ডনভিত্তিক গার্নিকা ৩৭ ল ফার্মের সহ-প্রধান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০১১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে তিনি অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করেন, কিন্তু তখন তাকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আবার দেশে আসেন। এরপর তাকে চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তাজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো জটিল এবং তাড়াহুড়ো করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাডম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন কোনো নিয়োগ বা চুক্তি দ্রুত করা সম্ভব নয়।
মন্তব্যে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা হয়। আইন মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে মেয়াদ শেষের সময়সীমা খুব কাছাকাছি হওয়ায় নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই, ফলে মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যাডম্যানের বিশেষ পরামর্শক পদে আর কোনো সময়সীমা নির্ধারিত হয়নি।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে ক্যাডম্যানের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাইব্যুনালকে নতুন বিশেষ পরামর্শক বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যা দেশের আইনি নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্যাডম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে চিফ প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থান অনুসারে, মেয়াদ শেষের সময়ে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সুযোগ না থাকায় এই বিষয়টি অস্থায়ীভাবে স্থগিত হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, টবি ক্যাডম্যানের বিশেষ পরামর্শক পদে মেয়াদ নবায়ন না হওয়ার মূল কারণ হল মেয়াদ শেষের কাছাকাছি সময়ে নতুন চুক্তি করার জন্য পর্যাপ্ত সময়ের অভাব, যা সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জটিল মামলাগুলোতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হবে, তা পরবর্তী সময়ে দেখা যাবে।



