International Crimes Tribunal (ICT) প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আজ সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট করে জানালেন, টোবি ক্যাডম্যান কোনো পদত্যাগ করেননি; তার এক বছরের চুক্তি ১৯ নভেম্বর ২০২৫-এ স্বাভাবিকভাবে শেষ হয়েছে এবং পুনর্নবায়ন করা হয়নি।
তাজুলের বক্তব্যের মূল বিষয় হল, ক্যাডম্যানের সেবা সমাপ্তি কোনো স্বেচ্ছা পদত্যাগের ফল নয়, বরং চুক্তিগত মেয়াদ শেষ হওয়াই একমাত্র কারণ। তিনি জোর দিয়ে বললেন, “পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই নেই,” এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করলেন।
ক্যাডম্যানের চুক্তি ১ বছরের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা নভেম্বর ২০২৪-এ কার্যকর হয় এবং নির্ধারিত সময়সীমা ১৯ নভেম্বর ২০২৫-এ শেষ হয়। চুক্তিতে নির্দিষ্ট করা ছিল, মেয়াদ শেষের পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে নবায়ন করা হবে কি না।
টোবি ক্যাডম্যান লন্ডন ভিত্তিক গার্নিকা ৩৭ আইন ফার্মের সহ-প্রধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট আইনজীবী। তিনি নভেম্বর ২০২৪-এ ICT-র বিশেষ প্রসিকিউটরি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান, যেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় আইনি পরামর্শ প্রদান তার প্রধান দায়িত্ব।
ক্যাডম্যানের দায়িত্বের মধ্যে ছিল প্রমাণ সংগ্রহ, মামলার কৌশল নির্ধারণ, এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি নথি প্রস্তুত করা। তার অভিজ্ঞতা ICT-কে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং জটিল মামলায় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে।
চুক্তি নবায়নের বিষয়ে ক্যাডম্যান আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, ইন্টারিম সরকার চুক্তি বাড়াবে কিনা তা জানার জন্য। তিনি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন, তবে মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যাডম্যানের দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয় এবং তিনি অফিসিয়ালি তার পদ থেকে সরে যান। তাজুলের মতে, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং পূর্বনির্ধারিত শর্তাবলীর ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল আবার জোর দিয়ে বললেন, “পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই নেই; চুক্তি শেষ হওয়াই একমাত্র কারণ।” তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাডম্যানের কাজের মূল্যায়ন ইতিবাচক এবং তার অবদান ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে ইন্টারিম সরকার এবং আইনি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ICT-র কাজের প্রতি নজর রাখছে, এবং ক্যাডম্যানের প্রস্থানকে একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করছে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে ICT-র বিশেষ উপদেষ্টা পদে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে। তাজুল উল্লেখ করেন, নতুন উপদেষ্টা নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ক্যাডম্যানের চুক্তি শেষ হওয়ার ফলে চলমান মামলায় কী প্রভাব পড়বে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে আইনি দল ইতিমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সারসংক্ষেপে, তাজুলের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে টোবি ক্যাডম্যানের সেবা সমাপ্তি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায়, পদত্যাগ নয়, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বিষয়টি ICT-র প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাবে।



