ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ – বাংলাদেশে শৈশবের বিকাশে পরিবেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার সময় শিল্পপতি আহমেদ আকবর সোবহান স্পষ্ট করে জানান যে, শিশুরা যেন স্বাধীন ও উদার পরিবেশে বেড়ে ওঠে এবং তাদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য যথাযথ উৎসাহ পায়, তা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
সোবহান এই মন্তব্য করেন একটি জাতীয় শৈশব উন্নয়ন সম্মেলনে, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে শিশুরা যে সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে, তা কমাতে সরকার, পরিবার ও সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার।
বিবেচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোকে এমনভাবে পরিবর্তন করা উচিত যাতে শিশুরা কেবল পরীক্ষার ফলাফলে নয়, বরং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত কৌতূহল ও অনুসন্ধানী মনোভাবকে বিকাশের সুযোগ পায়। এ জন্য পাঠ্যক্রমে সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং দলগত কাজের উপাদান যুক্ত করা জরুরি।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বেও তিনি জোর দেন। সোবহান উল্লেখ করেন, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য করা এবং পরিবারে মানসিক সমর্থন নিশ্চিত করা শিশুর সামগ্রিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি সরকারকে আহ্বান করেন, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নীতি ও সেবাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে।
শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সোবহান স্থানীয় সরকারকে শহর পরিকল্পনা ও নগর উন্নয়নে শিশু-বান্ধব নকশা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্ক, খেলার মাঠ ও সাইকেল পথের মতো অবকাঠামো শিশুর শারীরিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়ক।
বক্তব্যের সময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের কিছু প্রভাবও তুলে ধরেন। সোবহান বলেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মতবিরোধের কারণে কখনও কখনও শিশুরা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত হয়। তাই, সকল রাজনৈতিক দলকে শিশুর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি গঠনে একসাথে কাজ করা উচিত।
এদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ এবং শিশু-বান্ধব নগর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সোবহানের মন্তব্যের পর এই নীতিগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর করার দাবি বাড়ছে।
শিশু অধিকার সংস্থাগুলিও সোবহানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিশুরা যেন স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। তারা পরিবারকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় এবং সরকারকে শিশুর অধিকার রক্ষায় আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার পরামর্শ দেয়।
সোবহান শেষাংশে উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাফল্য নির্ভর করে আজকের সিদ্ধান্তের উপর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার, পরিবার এবং সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে শিশুরা একটি নিরাপদ, মুক্ত এবং সমৃদ্ধ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই আলোচনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও শিশুর কল্যাণে সরকারের দায়িত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা সোবহানের প্রস্তাবিত নীতিগুলোকে সমর্থন জানিয়ে, দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শিশুদের জন্য উদার ও মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার এই আহ্বান দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নগর পরিকল্পনা ক্ষেত্রের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হলে, বাংলাদেশের শিশুরা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিকাশের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



