ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানিয়েছেন যে দেশের সাম্প্রতিক অশান্তি সংক্রান্ত মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা সরকারীভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে আছে, তবে কোনো সরকারি বিবৃতি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
রাষ্ট্রদূত জানান, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘটিত ঘটনাগুলোর পরিসংখ্যান এখনও গোপন রাখা হয়েছে এবং তা জনসাধারণের কাছে সরবরাহ করা হয়নি। এই অবস্থার ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সঠিক তথ্যের অভাবে বিভ্রান্তি অনুভব করছেন।
ইরানের অভ্যন্তরে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট এসেছে। কিছু মিডিয়া সূত্রে বলা হচ্ছে, এই ঘটনাগুলোর ফলে প্রায় ১০০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছে, তবে সরকারী সূত্র থেকে কোনো নিশ্চিত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ইরানের সরকার তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায় না, কারণ তা দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার তথ্য প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও একই রকম অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা বলেছে, মৃত্যুর সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য সংবেদনশীল এবং তা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই তা প্রকাশ না করা যুক্তিযুক্ত।
বহিরাগত বিশ্লেষকরা ইরানের এই পদ্ধতিকে তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব হিসেবে সমালোচনা করছেন। তারা যুক্তি দেন, সরকারী তথ্যের অপ্রকাশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় এবং মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ বাড়ায়।
অন্যদিকে, ইরানের কিছু রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন সরকারকে চাপ দিচ্ছে যেন তারা মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করে। তারা দাবি করে, জনগণকে সত্য জানানোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মৌলিক অংশ।
রাষ্ট্রদূত এই দাবিগুলোর প্রতি তটস্থ নীতি বজায় রাখছেন এবং বলেন, সরকারী তথ্য প্রকাশের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি উন্নত হলে তথ্য শেয়ার করা হতে পারে।
ইরানের প্রেস বিভাগও একই রকম মন্তব্য করে, যে তারা তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংখ্যা প্রকাশ করবে না। এদিকে, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এখনও বিভিন্ন অনুমান ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এই ঘটনায় ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও নজর রাখছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তথ্যের অস্বচ্ছতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্বের প্রধান মানবাধিকার সংস্থা ইরানের সরকারকে অনুরোধ করেছে যেন তারা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করে, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সহজ হয়।
ইরানের সরকারী সূত্রের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, কিছু স্বতন্ত্র গবেষণা সংস্থা স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তারা দাবি করে, তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০ পর্যন্ত হতে পারে।
রাষ্ট্রদূত শেষ করে বলেন, ইরানের সরকার তথ্য প্রকাশে যে কোনো সময়ে পুনর্বিবেচনা করতে পারে, তবে বর্তমানে তা অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান।
এই বিবৃতি ইরানের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি সরকারী তথ্য প্রকাশ না হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।



