ঢাকার বাংলা মোটরের এনসিপি অফিসে আজ বিকেলে জাতীয় সিটিজেন পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ শজিব ভূয়াইন সমালোচকদের সরাসরি প্রমাণ উপস্থাপন করার আহ্বান জানিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন। তিনি দাবি করেন, কোনো ভুল প্রমাণিত হলে তিনি স্বয়ং ‘ন্যায়ের মুখোমুখি’ হতে প্রস্তুত এবং সরাসরি কথা বলতে ইচ্ছুক।
সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, পার্টি যখনই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আওয়াজ দেয়, তখনই তার বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান তীব্র হয়। তিনি ‘ফেক নিউজ’ ক্যাম্পেইনগুলোকে বহু মানুষকে, যার মধ্যে নাহিদ ইসলাম নামের একজনকে, প্রভাবিত করেছে বলে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে একই রকম প্রচার আমাদের লক্ষ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেন।
অতীতের রাজনৈতিক উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনকালে যদিও সবকিছু প্রকাশ পেয়েছিল, তবু যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে তবে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি সমালোচকদের সরাসরি মুখোমুখি হয়ে কথা বলার চ্যালেঞ্জ দেন।
ঋণ ডিফল্টার মোকাবেলায় এনসিপির কঠোর অবস্থানকে তিনি দেশের অন্যান্য কোনো দল থেকে বেশি দৃঢ় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, যখন পার্টি জনগণের হিতে পদক্ষেপ নেয়, তখনই ঋণগ্রস্তরা তাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনায় তিনি যোগ করেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের নেতারা যখন প্রশ্নের উত্তর দেন, তখনই নির্বাচনের দিকনির্দেশনা ও কমিশনের স্বচ্ছতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জনসাধারণের সমর্থন বাড়াতে তিনি পার্টির ক্রাউডফান্ডিং উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দান ১০ টাকার ন্যূনতম থেকে শুরু করা হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা থেকে বড় পরিমাণের অর্থ গ্রহণ করা হবে না, যাতে দায়বদ্ধতা না বাড়ে। লক্ষ্য হল বেশি মানুষকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা, অর্থের চেয়ে। দান প্রক্রিয়া পার্টির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৩০-৪০ সেকেন্ডে সম্পন্ন করা যায়।
এনসিপির জনগণের প্রতি অঙ্গীকারকে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পার্টি জনগণের জন্য কাজ করবে এবং জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতায় অগ্রসর হবে। তিনি স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে এনসিপি ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং অন্যান্য পার্টি সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্য পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে এবং সমালোচকদের কাছ থেকে আইনি পদক্ষেপের আহ্বান বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, আসিফের এই চ্যালেঞ্জের ফলে পার্টি ও সমালোচকদের মধ্যে আইনি লড়াই বাড়তে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করবে। তবে পার্টি জনসাধারণের দান সংগ্রহের মাধ্যমে ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে, যা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



