রাবাতের আফকন ২০২৫ ফাইনালে মরক্কো ও সেনেগাল দলের মধ্যে উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায়, যখন পেনাল্টি সিদ্ধান্তের পর সেনেগাল দল মাঠ ত্যাগ করে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ও আফ্রিকান ফুটবল সমিতির কঠোর নিন্দা ও শাস্তি সম্ভাবনা উত্থাপন করে।
ম্যাচের শেষের দিকে, অতিরিক্ত সময়ের আটমিনিটে ভিডিও সহকারী রেফারির (VAR) পর্যালোচনার পরে মরক্কোর পেনাল্টি প্রদান করা হয়। ঠিক এই মুহূর্তে সেনেগালের একটি গোল বাতিল হয়ে যায়, যা দলকে রাগান্বিত করে। হেড কোচ পাপে থিয়াও তৎক্ষণাৎ খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন, ফলে ম্যাচের ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়।
খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তন ১৬ মিনিটের বিরতির পর ঘটে। পেনাল্টি শুটার ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি মিস করেন, ফলে স্কোর অপরিবর্তিত থাকে এবং ম্যাচ পুনরায় শুরু হয়। দুই দলই অতিরিক্ত সময়ে লড়াই চালিয়ে যায়, যেখানে সেনেগালের পাপে গেয়ে চমকপ্রদ শট দিয়ে জয়ী গোল করেন এবং শিরোপা নিশ্চিত করেন।
আফ্রিকান ফুটবল সমিতি (CAF) ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য আচরণ” হিসেবে চিহ্নিত করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সংস্থা উল্লেখ করে যে ম্যাচের সময় রেফারির দল বা আয়োজকদের লক্ষ্য করে কোনো অনুপযুক্ত কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সব ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কাছে বিষয়টি প্রেরণ করা হবে যাতে প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করা যায়।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যান্টিনোও ঘটনাটিকে নিন্দা করেন এবং এটিকে “অগ্রহণযোগ্য দৃশ্য” বলে উল্লেখ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের নীতি ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য সকল সদস্য দেশের সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
সেনেগালের ক্যাপ্টেন সাদিও মানে এই ঘটনার পর নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ম্যাচটি ত্যাগ করা “বোকামি” হতো এবং আফ্রিকান ফুটবলের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতো। মানে যুক্তি দেন যে, আজকের আফ্রিকান ফুটবল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, তাই এমন কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে তার ইতিবাচক চিত্রকে ক্ষুন্ন করা উচিত নয়।
মানের মন্তব্যের পাশাপাশি, তিনি দলের বিজয়কে “অসাধারণ” বলে প্রশংসা করেন এবং সকল খেলোয়াড়ের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফ্রিকান ফুটবলের উন্নয়ন ধারাবাহিক এবং এই বিজয় তা প্রমাণ করে।
CAF ও ফিফার নিন্দা সত্ত্বেও, সেনেগাল দলের জন্য শাস্তি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে ম্যাচে উপস্থিতি নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক জরিমানা বা ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সেনেগালের ফেডারেশন ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দলের খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালু করেছে।
অবশেষে, সেনেগাল দল রাবাতের মাঠে শিরোপা জয় করার পর দেশের ভেতরে ও বাইরে উল্লাসের ঢেউ তোলা হয়। তবে এই উল্লাসের সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ত্যাগের ঘটনা এবং সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে, যা আফ্রিকান ফুটবলের ভবিষ্যৎ নীতি ও শৃঙ্খলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



