20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিময়মনসিংহে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণভোট প্রচার অনুমোদন নিয়ে আলী রীয়াজের মন্তব্য

ময়মনসিংহে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণভোট প্রচার অনুমোদন নিয়ে আলী রীয়াজের মন্তব্য

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ময়মনসিংহের টাউন হল অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ সভায় গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অনুমতি সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। এ সভা গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, চার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকল অংশগ্রহণকারীকে গণভোটের গুরুত্ব ও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে এর প্রভাব সম্পর্কে জানানো হয়।

আলী রীয়াজ বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশ্যই গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন, এতে কোনো বাধা নেই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই অনুমতি দেশের শাসনব্যবস্থায় অতীতের স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, “একজনের ইচ্ছায় যেন দেশ পরিচালিত না হয়, সে দায়িত্ব শহীদরা দিয়ে গেছে।” রীয়াজের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যে দায়িত্ব সরকারকে অর্পণ করেছে, তা হল রাষ্ট্রের সংস্কার, মানবতাবিরোধীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই দায়িত্ব পূরণ করা সম্ভব হবে, রীয়াজ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।” এভাবে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র, স্বাধীন বিচারবিভাগ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুজনের প্রশ্ন ছিল, কীভাবে সরকারি কর্মীদের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে এবং তা আইনগতভাবে কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে। রীয়াজ উত্তর দেন যে, প্রচারণা কার্যক্রমের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা ও তদারকি ব্যবস্থা গৃহীত হবে, যাতে কোনো অনিয়ম না ঘটে।

বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রধান বিরোধী দলগুলো পূর্বে উল্লেখ করেছে যে, সরকারি কর্মীদের রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা নির্বাচন আইন লঙ্ঘন করে। তারা দাবি করে যে, এমন পদক্ষেপ ভোটারদের স্বেচ্ছা সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর তদারকি প্রয়োজন। এই উদ্বেগগুলোকে রীয়াজের মন্তব্যে স্বীকার করা হয়নি, তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, সকল কার্যক্রম আইনসঙ্গতভাবে পরিচালিত হবে।

গণভোটের ফলাফল যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে জুলাই ২০২১-এ ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সনদ সংবিধানে যুক্ত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। রীয়াজের মতে, এই পরিবর্তন দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।

অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের সম্ভাবনা থাকলে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। রীয়াজ উল্লেখ করেন, “যেকোনো ফলাফলই দেশের সেবা ও উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে।”

সভা শেষে ফারাহ শাম্মী সকল অংশগ্রহণকারীকে গণভোটের গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন এবং ভবিষ্যৎ প্রচারণা কার্যক্রমে সমন্বয় ও সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন যে, সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলা জরুরি।

এই সভা গণভোটের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারী কর্মকর্তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী সপ্তাহে আরও কর্মশালা ও তথ্য সেশন পরিচালিত হবে, যাতে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় এবং ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।

গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ২০২৬ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত হয়েছে। ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী, বিচারবিভাগের স্বায়ত্তশাসন এবং দেশের সামগ্রিক নীতি নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা গৃহীত হবে। সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিককে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments