সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর মোট ৬৪৫টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সবের মধ্যে ৭১টি ধর্মীয় সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত, বাকিগুলো অপরাধমূলক স্বভাবের।
চিফ অ্যাডভাইজার অফিসের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৭১টি ধর্মীয় ঘটনার মধ্যে ৩৮টি মন্দির ধ্বংস, একটি মন্দির চুরি, আটটি মন্দিরে অগ্নিকাণ্ড, একটি হত্যাকাণ্ড এবং বাকি ২৩টি আইডল ভাঙার হুমকি, সামাজিক মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট এবং উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো বিভিন্ন ধরণের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত।
অপরাধমূলক দিকের ৫৭৪টি ঘটনার কারণ প্রধানত পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী বিরোধ, জমি সংক্রান্ত ঝগড়া, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন নির্যাতন এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার সঙ্গে যুক্ত। এসব ঘটনা ধর্মীয় বৈষম্যের ভিত্তিতে নয়, বরং সাধারণ অপরাধের শৃঙ্খলে পড়ে।
এ পর্যন্ত ৫০টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং সমান সংখ্যক সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ওপর তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শুনানি শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সরকারি রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তথ্যগুলো প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (FIR), সাধারণ ডায়েরি, চার্জ শিট এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান তদন্তের আপডেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদনটি জোর দিয়ে বলেছে যে, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত, তবে অধিকাংশ ঘটনা ধর্মীয় ঘৃণার ভিত্তিতে নয়, বরং সাধারণ অপরাধের ফল। এই পার্থক্য জনমত গঠনে ভুল ধারণা ও ভয়কে দূর করতে সহায়ক হবে।
ধর্মীয় সংঘর্ষের বেশিরভাগই মন্দিরের ধ্বংস বা আইডল নষ্টের সঙ্গে যুক্ত, যা সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্থাপনার প্রতি আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত। তবে এই ধরনের ঘটনা মোট ঘটনার এক ছোট অংশ মাত্র।
অপরাধমূলক ঘটনার মধ্যে পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধ, জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যার ফলে সংঘটিত হিংসা, রাজনৈতিক দলীয় সংঘর্ষ এবং যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। এসব ক্ষেত্রে ধর্মীয় পার্থক্য কোনো ভূমিকা রাখে না।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধের শিকারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি রক্ষার দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হবে।
গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে দ্রুত তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান, এবং আদালতে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই তথ্যগুলো প্রকাশের মাধ্যমে সরকার অপরাধের প্রকৃতি স্পষ্ট করতে এবং জনসাধারণকে সঠিক তথ্য প্রদান করতে চায়, যাতে ধর্মীয় ঘৃণার ভিত্তিতে অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়ে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনগত ব্যবস্থা কার্যকর করতে সরকারী সংস্থা ও পুলিশ বিভাগ একসাথে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।



