সেনেগালের ফরোয়ার্ড সাদিও মানে রবিবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান নেশনস কাপ (আফকন) ফাইনালে দ্বিতীয়বারের মতো মহাদেশীয় শিরোপা জয় করে সর্বোত্তম খেলোয়াড়ের (এমভিপি) উপাধি পান। টেরাঙ্গা লায়নস দলটি হোস্ট দেশকে পরাজিত করে ২০২৫ সালের টুর্নামেন্টের শিরোপা তোলার সঙ্গে সঙ্গে মানের নেতৃত্বের গৌরবও অর্জিত হয়।
ফাইনাল ম্যাচটি শূন্য-শূন্য সমতার সঙ্গে অতিরিক্ত সময়ে প্রবেশ করে। ম্যাচের শেষের দিকে, ৯৮তম মিনিটে মরক্কোর আক্রমণকারী ব্রাহিম দিয়াজের পেনাল্টি দেওয়া হয়, যখন সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফ দিয়া’কে ফাউল করেন। সেনেগালের প্রধান কোচ পাপে থিয়াও তখনই দলকে পরিবর্তন কক্ষে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, তবে মানে এবং গোলকিপার এডোয়ার্ড মেন্ডি দ্রুত মাঠে ফিরে এসে খেলোয়াড়দের পুনরায় সাজিয়ে দেন।
প্রায় ষোলো মিনিট পর, দিয়াজ প্যানেঙ্কা শৈলীতে পেনাল্টি নিক্ষেপ করেন, কিন্তু মেন্ডি সহজে তা আটকে দেন। এই মুহূর্তটি টুর্নামেন্টের অন্যতম নাটকীয় দৃশ্য হয়ে ওঠে, কারণ পেনাল্টি মিস হওয়ার ফলে ম্যাচটি শূন্য-শূন্যই শেষ হয় এবং অতিরিক্ত সময়ে প্রবেশ করে।
অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে দ্রুতগতিতে গোল করে দলকে ১-০ করে তোলেন। গেয়ের এই গোলই শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিশ্চিত করে, ফলে সেনেগাল প্রথমবারের মতো হোস্ট দেশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে।
মানে, যিনি এই টুর্নামেন্টে শেষবারের মতো অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন, ম্যাচের পর ক্যাপ্টেনের আরামব্যান্ড তার সহকর্মীরা হাতে দিয়ে তাকে সম্মানিত করেন। শিরোপা তোলার সময় তিনি দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে দাঁড়িয়ে গর্বের মুহূর্তটি উপভোগ করেন।
মানে ম্যাচের পর প্রকাশ্যে বললেন, ফুটবল একটি বিশেষ অনুভূতি, যা বিশ্বব্যাপী মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তিনি উল্লেখ করেন, রেফারির সিদ্ধান্তে পেনাল্টি দেওয়া হলেও খেলা থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়; এমন ঘটনা আফ্রিকান ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, তিনি খেলাটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, যদিও পরিস্থিতি অনুকূল না হলেও, কারণ ফুটবলের মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাক্তন নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল আমোকাচি মানের এই সাফল্যকে প্রশংসা করে মন্তব্য করেন যে, মানে সবসময় অতিরিক্ত প্রচেষ্টা করে থাকে। যদিও পুরো উদ্ধৃতি এখানে উল্লেখ করা হয়নি, তবে তার মন্তব্য মানের ক্যারিয়ারের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
এই জয় এবং এমভিপি উপাধি মানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়কে চিহ্নিত করে, কারণ তিনি ইতিমধ্যে আফকনে শেষবারের মতো অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি জাতীয় দলে আর না খেললেও, তার অবদান এবং নেতৃত্বের স্মৃতি সেনেগালের ফুটবল ইতিহাসে চিরস্থায়ী থাকবে।
সেনেগালের এই বিজয় আফ্রিকান ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে খেলোয়াড়দের ন্যায়বিচার, কোচের সিদ্ধান্ত এবং ম্যাচের নাটকীয়তা একসঙ্গে মিলিয়ে একটি স্মরণীয় চূড়ান্ত মুহূর্ত তৈরি হয়েছে।



