20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমুন্সীগঞ্জে মা ও ৮ বছর বয়সী মেয়ে কুপিয়ে হত্যা, সন্দেহভাজন পলাতক

মুন্সীগঞ্জে মা ও ৮ বছর বয়সী মেয়ে কুপিয়ে হত্যা, সন্দেহভাজন পলাতক

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় রাজারনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজারনগর গ্রামে সোমবার সকালবেলায় এক নারী ও তার আট বছর বয়সী মেয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মৃতদেহটি স্থানীয় বাসিন্দা যখন বাড়ির দরজা বন্ধ দেখেন, তখনই ভাঙা দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে পাওয়া যায়। মৃতদেহের পরিচয় ৩২ বছর বয়সী আমেনা বেগম এবং তার মেয়ে মরিয়ম, যাঁরা বাড়ি ভাড়া নেয়া মিজান মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।

ঘটনাস্থলে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়দের জানান, চার মাস আগে আমেনা ও তার পরিবার ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়ির দরজা বন্ধ থাকা দেখে বিকেল ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকে, তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ভেতরে মৃতদেহ দেখতে পায়।

সিরাজদীখান থানা থেকে ওসি মো. আবদুল হান্নান জানান, ঘটনাটি রাতের যে কোনো সময়ে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোন সন্দেহভাজন চিহ্নিত করা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ বা পরকীয়ার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে তদন্ত চলাকালে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

ওসি হান্নান আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাতের সময়ে ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।” তিনি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে, প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষী-সাক্ষাৎকার চালিয়ে যাচ্ছেন।

মৃত ব্যক্তির স্বামী বর্তমানে পলাতক অবস্থায় আছেন। পুলিশ তার সন্ধানে রয়েছে এবং তার অবস্থান জানার জন্য স্থানীয় অনুসন্ধান চালু করেছে। স্বামীর গৃহহীনতা ও পলায়নকে নিয়ে পরিবারে অতিরিক্ত উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হত্যার পদ্ধতি কুপিয়ে করা হওয়ায়, এটি পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত অপরাধের ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয়দের মতে, বাড়িতে প্রবেশের সময় কোনো লক বা সিকিউরিটি ব্যবস্থা ছিল না, যা অপরাধীর সহজে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সন্দেহভাজন প্রকাশ করেনি, তবে পারিবারিক বিরোধ, আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি পারিবারিক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তকর্তারা মৃতদেহের নিকটবর্তী এলাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও DNA পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, কুপিয়ে হত্যা বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে কঠোর শাস্তির আওতায় পড়ে। যদি সন্দেহভাজন ধরা পড়ে, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে। বর্তমানে মামলাটি সিরাজদীখান থানার অধীনে চলমান এবং পরবর্তী তদন্তে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সমাজে এই ঘটনা নিয়ে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরা নিরাপত্তা বাড়াতে বাড়ির দরজা ও জানালার সুরক্ষা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতি জানার জন্য সিরাজদীখান থানার অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের আপডেট অনুসরণ করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments