মঙ্গলবার, ব্যাংককের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ উইমেন’স ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশি মহিলা দল নেপালের ওপর ৩-০ গোলে জয়লাভ করে টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে আসে। এই জয় দলকে সাত পয়েন্ট এনে দেয়, যা একই সংখ্যক পয়েন্টে থাকা পাকিস্তানের সঙ্গে সমানভাবে শীর্ষে রাখে। ম্যাচের সূচনায় উভয় দলে সতর্কতা দেখা গেল, তবে প্রথম অর্ধে বাংলাদেশ দ্রুত গতি বাড়িয়ে দিল।
দলীয় ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুন ১৪তম মিনিটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেন। তার গোলটি ডিফেন্সের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে করা হয় এবং তার টুর্নামেন্টে গোলের সংখ্যা এখন চার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যাপ্টেনের এই গোলের পর দলটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে থাকে এবং আক্রমণাত্মক রীতি বজায় রাখে। তার নেতৃত্বে মাঠে সৃষ্ট শৃঙ্খলা এবং দ্রুত পাসিং খেলা দলকে সুবিধা দেয়।
কেবল পাঁচ মিনিট পরে, ১৯তম মিনিটে কৃষ্ণা রানী সরকার অতিরিক্ত গোল করে স্কোরকে ২-০ করে তুললেন। সরকার গড়িয়ে নেওয়া বলটি সঠিক মুহূর্তে মাথা দিয়ে গন্তব্যে পাঠিয়ে সহজে নেটের মধ্যে পাঠালেন। এই গোলটি দলের আধিপত্যকে দ্বিগুণ করে এবং নেপালের প্রতিরোধকে দুর্বল করে দিল। তার গোলের পর নেপাল আরও আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশি রক্ষণে গ্যাপ না পেয়ে গিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে দলটি আধিপত্য বজায় রাখে এবং লিপি আক্তার অতিরিক্ত গোলের মাধ্যমে তৃতীয় গোলের স্বাক্ষর করেন। লিপি আক্তার মাঝখানের পাস গ্রহণের পর দ্রুত দৌড়ে ডিফেন্ডারকে ছুঁড়ে ফেলেন এবং এককভাবে শট নেন, যা সরাসরি গলপোস্টে গিয়ে নেটকে ছুঁয়ে যায়। এই গোলটি ম্যাচের ফলাফলকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করে এবং নেপালের জন্য সমর্থন বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি দল কোনো গোল না দিয়ে ক্লিন শিট বজায় রাখে।
গোলরক্ষক স্বপ্না আক্তার ঝিলি পুরো ম্যাচ জুড়ে অতন্দ্র প্রহরীর মতো পোস্ট রক্ষা করেন। তিনি একাধিক শটকে নিরাপদে আটকে রাখেন এবং পেনাল্টি এলাকার কাছাকাছি থাকা বলগুলোকে পরিষ্কার করে দেন। তার দৃঢ় রক্ষণাবেক্ষণই দলকে শূন্য গোলের রেকর্ড বজায় রাখতে সাহায্য করে। স্বপ্না আক্তার ঝিলির পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করা হয়, কারণ তিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণকে কার্যকরভাবে দমন করেছেন।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন সাত পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষে রয়েছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে সমান। টুর্নামেন্টে মোট সাতটি দল অংশগ্রহণ করছে এবং প্রতিটি দল তিনটি ম্যাচের পর পয়েন্ট সংগ্রহ করে র্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তিনটি ম্যাচে দুইটি জয় এবং একটি ড্র অর্জন করেছে, যা তাদেরকে শীর্ষে রাখে। টেবিলে পাকিস্তানও একই পয়েন্টে রয়েছে, তবে গোল পার্থক্য এবং গেমের ফলাফলের ভিত্তিতে শীর্ষে কে থাকবে তা পরবর্তী ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট যাত্রা উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতকে পরাজিত করে শুভ সূচনা পেয়েছিল। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২-১ স্কোরে ভারতকে হারিয়ে টেবিলে প্রথম পয়েন্ট সংগ্রহ করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ১-৩ তে পিছিয়ে যাওয়ার পর দলটি দৃঢ় প্রত্যাবর্তন করে ৩-৩ ড্র করে। এই ড্রটি দলকে পয়েন্টের দিক থেকে সুরক্ষিত রাখে এবং শেষ পর্যন্ত শীর্ষে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে বাংলাদেশকে আরও দুইটি ম্যাচ খেলতে হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের শক্তি ভিন্ন হতে পারে। দলটি এখন পর্যন্ত শূন্য গোলের রেকর্ড বজায় রেখেছে, যা রক্ষণে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। কোচের কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশি মহিলা ফুতসাল দল নেপালের ওপর ৩-০ জয় দিয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষে উঠে এসেছে এবং শূন্য গোলের রেকর্ড বজায় রেখেছে। ক্যাপ্টেনের নেতৃত্ব, ফরোয়ার্ডদের গোল দক্ষতা এবং গোলরক্ষকের দৃঢ় রক্ষণাবেক্ষণ দলকে এই সাফল্যের পথে নিয়ে গেছে। পরবর্তী ম্যাচে দলটি শীর্ষস্থান বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য শিরোপা জয়ের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।



