22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচাকরিপ্রার্থীরা ২৩ দিন বিসিএসসহ সব সরকারি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানালেন

চাকরিপ্রার্থীরা ২৩ দিন বিসিএসসহ সব সরকারি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানালেন

একদল চাকরিপ্রার্থী ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, মোট ২৩ দিন, বিসিএসসহ সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের দাবি তুলে ধরেছেন। তারা তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।

স্মারকলিপিতে নিজেদেরকে “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে পরিচয় দিয়ে, তারা দেশের যুবসমাজের দীর্ঘকালীন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার কথা তুলে ধরেছেন। প্রায় সতেরো বছর ধরে তরুণরা প্রকৃত ভোটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত, এ কথা উল্লেখ করে তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

প্রার্থীরা যুক্তি দেন, নির্বাচনের আগে ও চলাকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে, যা তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে এবং ভোটের প্রস্তুতি নিতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সময়ে বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার চাপ, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করছে বলে তারা দাবি করেন।

স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষাসহ সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ রাখা উচিত, যাতে তরুণ ভোটাররা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে। এছাড়া, তারা উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচন কমিশন সংবিধানিকভাবে স্বাধীন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে এই ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে।

তাদের মূল চাহিদা দুটি: প্রথমত, ২১ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত রাখা; দ্বিতীয়ত, একই সময়ে দেশের সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ রাখা। এই দাবিগুলি নির্বাচনের সময়কালে তরুণদের মানসিক চাপ কমিয়ে, ভোটে অংশগ্রহণের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। কমিশনকে সংবিধানের অধীনে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টতা এখনও অনুপস্থিত।

সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচি পূর্ব নির্ধারিত এবং বহু বছর আগে পরিকল্পনা করা হয়। তাই কিছু বিশ্লেষক অনুমান করছেন, কমিশন বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরীক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে এবং নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রার্থীদের দাবি অনুযায়ী, যদি পরীক্ষার চাপ না কমে, তবে তরুণ ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে, যা ভোটের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নির্বাচনী অংশগ্রহণের হার বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর থেকে, প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের উত্তর প্রত্যাশা করছেন এবং প্রয়োজন হলে আইনি পথে তাদের দাবিকে সমর্থন করার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা দাবি করছেন, যদি কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারা আদালতে আবেদন করে এই বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে।

এই দাবির ফলে নির্বাচনী সময়সূচি ও সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে। যদি কমিশন পরীক্ষার স্থগিতের অনুমোদন দেয়, তবে তা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে; অন্যদিকে, যদি না দেয়, তবে তরুণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রভাবিত হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, চাকরিপ্রার্থীদের এই উদ্যোগ নির্বাচনী সময়ে তরুণদের ভূমিকা ও সরকারি নিয়োগের সময়সূচি নিয়ে একটি নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। এখন পর্যন্ত কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনির্ধারিত, তবে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে এই বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments