20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনজয়শ্রী কবির, ৭৩ বছর বয়সে লন্ডনের নার্সিং হোমে বিদায় নিলেন

জয়শ্রী কবির, ৭৩ বছর বয়সে লন্ডনের নার্সিং হোমে বিদায় নিলেন

ব্রিটেনের লন্ডনের রোমফোর্ডে অবস্থিত একটি নার্সিং হোমে ৭৩ বছর বয়সে জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু ঘটেছে। তার মৃত্যুর খবর প্রথমে জানার পর প্রায় দুই দিন কেটে গিয়েছিল, কারণ তিনি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না থেকে গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন।

কবিরের শেষ দিনগুলো শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে, চলচ্চিত্রের গ্ল্যামার থেকে বিচ্ছিন্ন একটি পরিবেশে কেটেছে। তিনি রোমফোর্ডের এই নার্সিং হোমে শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্রাম গ্রহণ করছিলেন, যেখানে কোনো জনসাধারণের সমাবেশ বা চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার ছিল না।

বছরের পর বছর তিনি জনসাধারণের দৃষ্টির বাইরে নিজেকে রেখেছেন। তার এই বিচ্ছিন্নতা কোনো রাগ বা নাটকীয়তা থেকে নয়, বরং স্বেচ্ছায় গৃহীত একটি সিদ্ধান্তের ফল। গোপনীয়তা তার জন্য স্ব-যত্নের একটি রূপে পরিণত হয়েছিল, যা আজকের সময়ে বেশ প্রচলিত হলেও তিনি আগে থেকেই তা বেছে নিয়েছিলেন।

বাঙালি চলচ্চিত্রের সোনালী যুগে তার কাজের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেন। তার অভিনয় শৈলী ছিল সংযত, চিন্তাশীল এবং আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশে সমৃদ্ধ। তার সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক রূপে নয়, বরং নীরবতা ও গভীর দৃষ্টিতে প্রকাশ পেয়েছিল।

আজও তার পুরনো চলচ্চিত্রের ক্লিপ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখা যায়, যেখানে তার মুখের অভিব্যক্তি, শান্ত এবং মনোযোগী, গল্পের চেয়ে বেশি সময় দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই ধরনের দৃশ্য তার শিল্পী হিসেবে অনন্য উপস্থিতি তুলে ধরে।

প্রায় পনেরো বছর আগে, লন্ডনের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত জেনেসিস সিনেমা হলের রেইনবো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রথমবারের মতো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। ঐ সিনেমা হলটি ছোট, কিছুটা পুরনো, তবে স্বাধীন ও বিশ্ব চলচ্চিত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে তিনি দর্শকের মধ্যে বসে, সামান্য সামনে ঝুঁকে, চলচ্চিত্রের প্রতি গভীর মনোযোগ দেখিয়ে ছিলেন।

সেই মুহূর্তে তার কোনো সেলিব্রিটি চিহ্ন স্পষ্ট ছিল না, তবু তার উপস্থিতি একটি স্বতন্ত্র গম্ভীরতা বহন করত। তার চেহারার সরলতা এবং মনোযোগের ভঙ্গি দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের সম্মান জাগিয়ে তুলেছিল।

বছরের পর বছর, বিভিন্ন চলচ্চিত্র সমাবেশে আবারও তার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। প্রতিবারই তিনি সংযতভাবে উপস্থিত থাকতেন, মনোযোগী এবং বিনয়ী আচরণে পরিচিত ছিলেন। টেলিভিশনে নিয়মিত উপস্থিতি থাকায় তিনি লেখকের কাজের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, এবং তাদের সংক্ষিপ্ত আলাপের সময় উষ্ণতা ও উদারতা প্রকাশ পেয়েছিল।

তার জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি জনসমক্ষে না গিয়ে, নিজের গৃহে শান্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। যদিও তার মৃত্যু সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েনি, তবু বাঙালি চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে তার কাজের পুনরায় প্রকাশে অংশ নিয়েছেন।

জয়শ্রী কবিরের অবদান শুধুমাত্র তার অভিনয় নয়, বরং তার গোপনীয়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিল্পী জীবনের একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছে। তিনি চলচ্চিত্রের জগতে একটি মৃদু কিন্তু শক্তিশালী উপস্থিতি হিসেবে স্মরণীয় রইবেন।

তার মৃত্যুর পর, চলচ্চিত্র সমালোচক ও শিল্পী সমিতি তাকে সম্মান জানিয়ে স্মরণীয় অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করছে, যদিও তিনি নিজে এই ধরনের সমাবেশের পক্ষে ছিলেন না। এই উদ্যোগগুলো তার শিল্পী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তার কাজ থেকে শিখতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে।

জয়শ্রী কবিরের জীবন ও কর্মের এই সংক্ষিপ্ত বিবরণ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শিল্পের জগতে গৌরব ও গোপনীয়তা দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার বিদায়ের পরেও তার চলচ্চিত্রের দৃশ্যাবলি এবং তার অনন্য শৈলী নতুন দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে, এবং বাঙালি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার স্থান অমলিন থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments