ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতেন ভক্তদের প্রিয় ব্যাটসম্যান ভিভানী কোহলি। কোহলি ১২৪ রান সংগ্রহ করে, যার মধ্যে ১০৮ রান সেঞ্চুরি অন্তর্ভুক্ত, তবে শেষ পর্যন্ত ভারত ২৪২/৯ স্কোরে হেরে যায় এবং সিরিজের ফলাফলও বিপর্যস্ত হয়।
কোহলির এই ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের ৫৪তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, যা ৩১১ ম্যাচের পরিসরে অর্জিত। তিনি ২৯তম চেজ সেঞ্চুরি রেকর্ড করেও দলকে জয়ী করতে পারেননি, ফলে এই সেঞ্চুরি তার জন্য বিরল একটি পরাজয়ের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোহলি এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে মোট ৫৪টি সেঞ্চুরি করেছেন, যার মধ্যে ২৯টি চেজে রেকর্ড হয়েছে। তার এই চেজ সেঞ্চুরিগুলোর ২৪টি ম্যাচে ভারত জয়ী হয়েছে, আর মাত্র পাঁচটি ম্যাচে দল পরাজিত হয়েছে।
সেই পাঁচটি পরাজয়কেই বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রথমটি ২০১৪ সালে নেপিয়ার শহরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১২৩ রান দিয়ে, দ্বিতীয়টি ২০১৬ সালে ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১০৬ রান দিয়ে, তৃতীয়টি ২০১৮ সালে পুনেতে পশ্চিম ভারতীয়দের বিরুদ্ধে ১০৭ রান দিয়ে, এবং চতুর্থটি ২০১৯ সালে রাঁচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১২৩ রান দিয়ে ঘটেছিল।
কোহলির সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ভেন্যু রেকর্ডও নতুন করে গড়ে উঠেছে। তিনি এখন পর্যন্ত ৩৫টি ভিন্ন ভেন্যুতে সেঞ্চুরি করেছেন, যা শচীন টেন্ডুলকারের ৩৪টি ভেন্যু রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। টেন্ডুলকারের এই রেকর্ডটি ২০২৩ বিশ্বকাপে গড়ে তোলা হয়েছিল।
ইন্ডিয়ার আরেকজন সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মা ২৬টি ভিন্ন ভেন্যুতে সেঞ্চুরি করেছেন, যা কোহলির রেকর্ডের পরের স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকান হাশিম আমলা ও এবি ডি ভিলিয়ার্স প্রত্যেকে ২১টি ভিন্ন ভেন্যুতে সেঞ্চুরি রেকর্ড করেছেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোহলির সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন সাতটি, যা রিকি পন্টিং ও বিরেন্দ্র শেবাগের ছয়টি সেঞ্চুরি অতিক্রম করেছে। উভয়ই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে ছয়টি করে সেঞ্চুরি করেছেন, আর কোহলি এখন এই তালিকায় শীর্ষে।
কোহলির এই সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ভারত ৯টি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে, যেখানে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। এই পরাজয়গুলোতে দলটি মোট স্কোরে পিছিয়ে গিয়েছে, যদিও কোহলির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স উজ্জ্বল ছিল।
ম্যাচের শেষ ওভারগুলোতে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে, ফলে ভারত শেষ পর্যন্ত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হয়। কোহলির দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য সত্ত্বেও এই পরাজয়টি তার ক্যারিয়ারের একটি অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
ইন্দোরের ভক্তরা কোহলির প্রচেষ্টা ও দৃঢ়সংকল্পকে প্রশংসা করে, তবে দলগত পারফরম্যান্সের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। কোহলির সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ভারতকে জয়ী করতে না পারা, ভবিষ্যতে দলকে কীভাবে সমন্বয় করতে হবে তা নিয়ে বিশ্লেষণকে ত্বরান্বিত করেছে।
সিরিজের পরবর্তী সময়সূচি ওয়ানডে ক্যালেন্ডারে এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে কোহলির ধারাবাহিক সেঞ্চুরি এবং তার রেকর্ড ভেঙে যাওয়া নতুন দিকগুলো ক্রিকেট জগতের আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে গেছে।



