গত বছর দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি হিংসাত্মক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক প্রেরণা পাওয়া গেছে। এই তথ্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সমন্বয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনার মূল কারণ সাধারণ অপরাধমূলক কার্যকলাপ, যা পারিবারিক, সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত।
সাম্প্রদায়িক উপাদানযুক্ত ৭১টি ঘটনার মধ্যে ধর্মীয় স্থাপনা ও প্রতিমা ধ্বংসের সংখ্যা সর্বোচ্চ। মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ৩৮টি, মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ৮টি, মন্দিরে চুরির ১টি এবং একটি হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ২৩টি ঘটনার মধ্যে প্রতিমা ভাঙার হুমকি, সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট এবং পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কাজ অন্তর্ভুক্ত।
এই ৭১টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্য পুলিশ ৫০টি মামলা দায়ের করেছে এবং একই সংখ্যক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া ২১টি ঘটনার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। মামলাগুলি বর্তমানে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে; সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, এবং আদালতে দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ৫৭৪টি অ-সাম্প্রদায়িক ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায় যে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী বিরোধ ৫১টি, জমি-সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব ২৩টি, চুরির ঘটনা ১০৬টি, পূর্ব শত্রুতাজনিত ২৬টি, অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা ১৭২টি এবং ধর্ষণের ঘটনা ৫৮টি। বাকি ১৩৮টি ঘটনায় অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপরাধ অন্তর্ভুক্ত।
অ-সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর জন্য পুলিশ মোট ৩৯০টি নিয়মিত মামলা এবং ১৫৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা রেকর্ড করেছে। এই মামলাগুলোর মধ্যে ৪৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩০টি ঘটনার ওপর বিভিন্ন ধরণের পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকা মামলাগুলোতে প্রমাণ সংগ্রহ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সাক্ষী বিবৃতি গ্রহণের কাজ দ্রুততর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের দপ্তর উল্লেখ করেছে যে বাংলাদেশ একটি বহুমুখী ধর্মীয় সমাজ, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মের মানুষ সমান অধিকারভোগী। সংবিধান ও নৈতিক দায়িত্বের ভিত্তিতে প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে উপাসনালয় সুরক্ষা, উসকানিমূলক কার্যকলাপের প্রতিরোধ, অপরাধের দ্রুত তদন্ত এবং গুজবের বিস্তার রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ভবিষ্যতে এই ধরনের হিংসা কমাতে আইন প্রয়োগের তীব্রতা বাড়াবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় বাড়াবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা হ্রাসে সামাজিক সংলাপ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবেচ্য বিষয় হল, বর্তমানে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন, সাক্ষী জিজ্ঞাসা এবং রায়ের অপেক্ষা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, সকল অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



