বিনোদন জগতের নজর এখন রনবীর সিংহের নতুন ছবিতে, যার নাম ‘প্রলয়’। এই চলচ্চিত্রটি অ্যাপ্লজ এন্টারটেইনমেন্টের উদ্যোগে তৈরি এবং মুম্বাই শহরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ বাজেটের ছবি হিসেবে গৃহীত হবে।
‘প্রলয়’কে হিন্দি সিনেমার প্রথম পূর্ণাঙ্গ জম্বি থ্রিলার হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিচালক জে মেহতা, হানসাল মেহতার সন্তান, ভবিষ্যৎধর্মী ধ্বংসাবশেষে ভরা মুম্বাইকে এক ভয়ঙ্কর জম্বি-ল্যান্ডে রূপান্তর করার দায়িত্বে আছেন।
এই প্রকল্পের জন্য শহরের প্রতিটি কোণার বিশদ মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্স দৃশ্যপট গড়ে তুলতে মুম্বাইয়ের নগরী কাঠামো, রাস্তা, ভবন এবং জনসংখ্যার গতিবিধি সবই সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রযোজক দল উল্লেখ করেছে যে, ছবির ধ্বংসের মাত্রা এবং পরিবেশের বিশদতা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয় হতে হবে। এ জন্য তারা জন ক্রান্সিনস্কির ‘এ কুইয়েট প্লেস’ এবং ড্যানি বয়েলের ‘২৮ ডেজ লেটার’ এর মতো চলচ্চিত্রের স্কেলকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে।
‘প্রলয়’কে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপোক্যালিপটিক ফিল্মে রূপান্তর করার জন্য সমীর নায়ার এবং অ্যাপ্লজ এন্টারটেইনমেন্টের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। উভয় পক্ষই ছবির ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, সাউন্ড ডিজাইন এবং গল্পের গ্লোবাল আকর্ষণ বাড়াতে ব্যাপক বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বাজেটের দিক থেকে এই প্রকল্পটি মুম্বাই ভিত্তিক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে চিহ্নিত হবে। প্রযোজকরা জানিয়েছেন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, সেট নির্মাণ এবং উচ্চমানের পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।
চিত্রগ্রহণের জন্য মুম্বাইয়ের বিভিন্ন ল্যান্ডমার্ক এবং গলিপথে বিশাল সেট গড়ে তোলা হবে। শহরের পরিচিত দৃশ্যগুলোকে ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থাপন করতে বিশেষ কাস্টম সেট এবং ডিজিটাল রেন্ডারিং ব্যবহার করা হবে।
‘প্রলয়’তে রনবীর সিংহের পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে, যদিও তাদের নাম এখনো প্রকাশিত হয়নি। প্রধান চরিত্রে রনবীর সিংহের উপস্থিতি ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চলচ্চিত্রের নির্মাণে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের জন্য হলিউডের শীর্ষ স্তরের স্টুডিও এবং সাউন্ড মিক্সিংয়ের জন্য অভিজ্ঞ টিমকে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রযোজকরা আশা করছেন, ‘প্রলয়’ মুম্বাইয়ের রাস্তায় জম্বি থিমের প্রথম বড় স্কেল প্রদর্শনী হবে এবং হিন্দি সিনেমায় নতুন ধারার সূচনা করবে। ছবির থিম এবং ভিজ্যুয়াল স্টাইলের মাধ্যমে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়া লক্ষ্য।
চলচ্চিত্রের মুক্তি তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ২০২৭ সালের শেষের দিকে স্ক্রিনে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিজার এবং পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানো হবে।
‘প্রলয়’কে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের উচ্চ বাজেটের প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমা বিশ্ব মঞ্চে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে শিল্পের বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
সারসংক্ষেপে, রনবীর সিংহের ‘প্রলয়’ মুম্বাইকে জম্বি-ল্যান্ডে রূপান্তর করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা, বিশাল বাজেট এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত সমর্থন নিয়ে গঠিত। এই প্রকল্পটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দর্শকদের জন্য নতুন ধরণের বিনোদন উপস্থাপন করবে।



