যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমিতি আজ সকাল ১১টায় শহীদ মিনারের সামনে মানব শৃঙ্খল গঠন করে আলাদা বেতন স্কেল ও সমন্বিত বেতন কাঠামোর দাবি জানায়। সমিতি জাতীয় বেতন কমিশনের বর্তমান নীতিকে বৈষম্যপূর্ণ ও অবহেলাপূর্ণ বলে সমালোচনা করে।
এই কর্মসূচি শিক্ষকদের, কর্মকর্তাদের এবং কর্মীদের জন্য সমান বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা শৃঙ্খল গঠন করে একসাথে দাঁড়িয়ে তাদের দাবি স্পষ্ট করে তুলে ধরেন।
সমাজকর্মের অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান মানব শৃঙ্খলে তার মতামত প্রকাশ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাংলাদেশের তুলনায় বেশি, যদিও তাদের প্রতি ব্যক্তি আয় কম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের শিক্ষকদের এই বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে হবে।
ড. হাসান উল্লেখ করেন, সমান বেতন কাঠামো না থাকলে শিক্ষকরা সম্মানজনক অবস্থান থেকে বঞ্চিত হন এবং তা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। তিনি সরকারের দ্রুত সংস্কার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. ইমরানুল হক উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের পরামর্শদাতা মণ্ডলীতে তিনজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত আছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব যখন এই শিক্ষকেরা নীতিনির্ধারক পদে রয়েছেন।
ড. হক আরও জানান, সমিতি তাদের দাবি লিখিতভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে এবং সংশ্লিষ্ট নীতির পুনর্বিবেচনা চায়। তিনি জোর দেন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়।
সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. রাইস উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন নিয়ে গঠিত উপকমিটি তিনটি মূল দিক প্রস্তাব করেছিল: যোগ্য শিক্ষকদের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা, মেধাবী ব্যক্তিদের দেশীয়ভাবে ধরে রাখা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রস্তাবগুলো এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পরিণত হয়নি এবং সরকার থেকে কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। তিনি ইন্টারিম সরকারের প্রতি প্রশ্ন তুলেন, সত্যিই কি তারা মেধাবী শিক্ষকদের আকৃষ্ট করে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করতে চায়।
শিক্ষক সমিতি এই মুহূর্তে বেতন কাঠামোর পুনঃমূল্যায়ন, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের দাবি করে। তারা আশা করে, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের এই ধরনের প্রতিবাদ ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। আপনার মতামত কী? যদি আপনি শিক্ষার্থী হন, তবে আপনার শিক্ষকের বেতন কাঠামো সম্পর্কে কী ধরনের পরিবর্তন প্রত্যাশা করবেন? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।



