জাতীয় ছাত্রদল (JCD) আজ ইলেকশন কমিশনের সদরদফতরে দ্বিতীয় ধারাবাহিক দিন সিট‑ইন চালিয়ে যাচ্ছে। দল ও কর্মীরা সকাল ১১ টার পরে ভবনের সামনে সমাবেশ করে প্রতিবাদ শুরু করে। তারা পোস্টাল ব্যালট, রাজনৈতিক চাপ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (SUST) ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনের বিষয়ে তিনটি মূল দাবি তুলে ধরেছে।
প্রায় এক ঘন্টার মধ্যে দুইশো সদস্যের একটি গোষ্ঠী গঠন করে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে। তারা একত্রে স্লোগান গাইতে গাইতে তাদের দাবি জোরালোভাবে প্রকাশ করে। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রথম দাবি পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত। JCD দাবি করে যে ইসিসি পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ন করে। তারা উল্লেখ করে যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভোটারদের বিশ্বাসকে দুর্বল করে।
দ্বিতীয় দাবি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের প্রতি ইসিসির সংবেদনশীলতা। দলটি অভিযোগ করে যে ইসিসি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাবের অধীনে দ্রুত এবং অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তৃতীয় দাবি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনের নির্দেশনা নিয়ে। JCD এই নির্দেশনাকে “অপ্রতিদ্বন্দ্বী” এবং “বিতর্কিত” বলে সমালোচনা করে, এবং দাবি করে যে এতে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে। ইসিসি ১৫ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে SUST‑এর কেন্দ্রীয় ও হল ইউনিয়ন নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি, অনুষ্ঠিত হবে।
JCD নেতারা ইসিসির এই অনুমোদনকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করে, এবং দাবি করে যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদারকি প্রয়োজন। তারা ইসিসিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং তাদের দাবিগুলো মেনে নিতে আহ্বান জানায়।
বিশ্লেষকরা ইসিসির ওপর বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপকে দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। যদি ইসিসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে ভোটারদের আস্থা হ্রাস পেতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বৈধতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই ধরনের বিতর্ক শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে পারে, তবে একইসাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইসিসি উভয়েরই এই বিষয়গুলোতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পরবর্তী দিনগুলোতে JCD সম্ভবত সিট‑ইন চালিয়ে যাবে অথবা আইনি পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকবে। ইসিসি meanwhile, নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি বাড়াচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।



