পাবনা জেলার সার্কিট হাউসের হলরুমে ১৯ জানুয়ারি সোমবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম বিসমিল্লাহ সংক্রান্ত তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিসমিল্লাহ কোনো নতুন সংযোজন নয় এবং এটি কখনোই অদৃশ্য হবে না; এটি জীবনের সর্বদা উপস্থিত একটি ধারাবাহিকতা।
বিসমিল্লাহকে সংবিধানের সঙ্গে যুক্ত করার প্রশ্নে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, গণভোটের ফলাফল ও সংবিধানের বিষয়বস্তু একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র। তাই এই বিষয়টি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সভায় উপস্থিত জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে নুরজাহান বেগমের মন্তব্যে নির্বাচনী পরিবেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দলের অভিযোগের প্রতি তিনি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই অভিযোগগুলোতে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং নির্বাচনকে নষ্ট করার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না।
উল্লেখযোগ্য যে, তিনি নিশ্চিত করেন যে নির্বাচনের সময় সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে এবং সঠিক সময়ে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই কথা বলার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার প্রতি সরকারের ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা সভাপতিত্ব করেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা সহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভার পর নুরজাহান বেগম পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের মাঠে গিয়ে গণভোট সংক্রান্ত প্রচার গাড়ি ও অন্যান্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত করেন যে, প্রচার কার্যক্রম নির্বাচনের ন্যায্যতা বজায় রাখতে যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এই মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিসমিল্লাহ সংক্রান্ত বিতর্ক এবং নির্বাচনী পরিবেশের স্থিতিশীলতা দুটোই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। নুরজাহান বেগমের স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার এই বিষয়গুলোকে সংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ভবিষ্যতে, নির্বাচনের ফলাফল ও সংবিধানের সংশোধনী প্রক্রিয়ার ওপর এই ধরনের স্পষ্টতা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার ধারা পরিবর্তন করতে পারে। বিশেষ করে, যারা বিসমিল্লাহ সংযোজনের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের জন্য এই মন্তব্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।
সামগ্রিকভাবে, নুরজাহান বেগমের বক্তব্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সংবিধানিক নীতির প্রতি সরকারের দৃঢ়তা নির্দেশ করে এবং পাবনা জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



