ঢাকার নির্বাচন কমিশনে সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানালেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে এই ধরনের তদারকি অপরিহার্য।
ইসি স্পষ্ট করে বলেন, বড় দল হোক বা ছোট দল, সকল প্রার্থী ও দলই সমান অধিকার নিয়ে ইসির কাছে আবেদন করতে পারে। কোনো পার্থক্য না রেখে প্রত্যেকের অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে কমিশনের কাজের পরিধি বাড়ছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতিমধ্যে তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবনা ও সংশয়গুলো ইসিতে জমা দিয়েছে। এসব আবেদনগুলোতে ভোটার তালিকা, ভোটার সনদ, নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাস ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত। কমিশন এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী কাজ শুরু করেছে।
কমিশন ছোটখাটো সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ভোটার সনদে ভুল তথ্য সংশোধন, ভোটার তালিকায় অপ্রয়োজনীয় নাম মুছে ফেলা এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা স্পষ্ট করা ইত্যাদি কাজ ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে ভোটারদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত কোনো বৃহৎ সমস্যার মুখোমুখি হয়নি, তবে ইসি জানান, বড় সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, দলীয় অভিযোগের গম্ভীর বিশ্লেষণ চলমান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আদালতীয় আপিল শুনানির প্রশ্নে ইসি মন্তব্য করেন, আপিল শুনানির সময় তিনি একটি সুপ্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখেছেন। প্রার্থীরা তাদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং ভোটের মাঠে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।
এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য কমিশন প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে। তিনি যোগ করেন, ভোটারদের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।
কমিশনের ওপর কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ আছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে ইসি স্পষ্ট করে বলেন, একটি কমিশনের একমাত্র সুযোগ থাকে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করার। দুইবার কোনো কমিশনকে একই কাজের সুযোগ দেওয়া হয় না, তাই অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, কমিশন কোনো বাহ্যিক চাপের অধীন নয়। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সকলের সমর্থন পেতে চায়।
ইসি আরও বলেন, সবাই একটি পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন চাইছে, এবং কমিশনও সেই লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অবশিষ্ট সময়ে কমিশন দলীয় অভিযোগের চূড়ান্ত সমাধান, ভোটার তালিকার চূড়ান্ত যাচাই এবং নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্ত মানচিত্র প্রকাশের দিকে মনোযোগ দেবে। এই পদক্ষেপগুলো শেষ হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



