ঢাকায় অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেশি পোশাক রপ্তানিকারক সংস্থা বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ স্পিনিং মিলের ওপর আরোপিত শুল্ককে একচেটিয়া বাজার গঠনের অভিযোগ তুলেছে। তারা জানায়, আমদানি করা সুতার তুলনায় দেশীয় স্পিনিং মিল থেকে সুতার দাম প্রতি কেজি ৪৬ টাকা বেশি, যা রপ্তানিকারকদের ব্যয়বহুল করে তুলছে।
প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, সরকার ‘দেশি শিল্প রক্ষা’ নামে আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সুতার বাজারে কৃত্রিম সুরক্ষা তৈরি করেছে। তারা দাবি করে, যদি স্পিনিং মিল আন্তর্জাতিক মানের সুতাকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ করতে পারে, তবে তা দেশ থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
একজন প্রতিনিধির মতে, ভারত থেকে সুতার আমদানি খরচ কম হলে, দেশীয় মিলগুলোও প্রতি কেজিতে ১০‑১৫ সেন্ট (১২‑১৮ টাকা) বেশি দরে সুতার সরবরাহে ইচ্ছুক। তবে বর্তমান শুল্কের ফলে রপ্তানিকারকরা কম মুনাফায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে তারা উচ্চ মূল্যের সুতার বিকল্প খুঁজতে বাধ্য।
বিকেএমইএর সভাপতি জানান, “আমরা অল্প লাভে ব্যবসা চালাই, অতিরিক্ত দামে সুতার ক্রয় আমাদের জন্য সম্ভব নয়। অন্য শিল্পকে রক্ষা করার নামে পোশাক শিল্পের ক্ষতি করা যুক্তিসঙ্গত নয়।” তিনি সরকারকে স্পিনিং মিলকে ভিন্ন সুবিধা প্রদান করে শিল্প রক্ষার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ যোগ করেন, “যেখানে কাঁচামালের দাম কম, সেখানেই আমরা কাজ করব। আমাদের বাজারকে উন্মুক্ত করে আমদানি সহজ করা দরকার।” তিনি উল্লেখ করেন, মোট সুতার চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ দেশীয় স্পিনিং মিল থেকে পূরণ হয়, আর বাকি ৪০ শতাংশ আমদানি করা হয়।
বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামিম এহসান ব্যাখ্যা করেন, কিছু সুতার প্রকার দেশে উৎপাদন হয় না, ফলে তা আমদানি করা ছাড়া বিকল্প নেই। তাছাড়া, ক্রেতারা আন্তর্জাতিক কাঁচামালের দামের ভিত্তিতে পোশাকের দাম নির্ধারণ করে; যদি বিদেশে সুতার দাম কম এবং দেশে বেশি হয়, তবে তারা স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রি করতে অনিচ্ছুক।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যদিও তৈরি পোশাক শিল্পে সর্বোচ্চ ব্যবহৃত কাউন্ট ৩০‑৩২। এই শুল্কের ফলে উচ্চমানের সুতার সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা গার্মেন্টস শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়াবে।
প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বর্তমান শুল্ক নীতি দেশি স্পিনিং মিল ও বস্ত্রকল ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা দাবি করে, শুল্ক হ্রাস বা রদবদল না করা পর্যন্ত গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা হ্রাস পাবে।
গার্মেন্টস খাতের বর্তমান অবস্থানকে ‘আইসিইউতে’ (International Competitive Unit) বলা হয়েছে, এবং শিল্পের ভবিষ্যৎকে ‘পাটের পর পোশাক শিল্পের ধ্বংস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই উদ্বেগের মধ্যে, রপ্তানিকারক সংস্থাগুলো সরকারকে নীতি পুনর্বিবেচনা করে বাজার উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে কাঁচামালের দামের স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
শুল্ক নীতি পরিবর্তনের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের অভাবে, রপ্তানিকারকরা সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি প্রতিযোগিতা হ্রাস এবং কর্মসংস্থান হ্রাসের সম্ভাবনা উল্লেখ করছেন। তারা জোর দিয়ে বলছে, শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে সুতার দাম কমে গেলে গার্মেন্টস শিল্পের মুনাফা বাড়বে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, স্পিনিং মিলের সুতার শুল্ক নীতি রপ্তানিকারকদের ‘একচেটিয়া বাজার’ গঠনের অভিযোগের মুখে রয়েছে, এবং তারা শুল্ক হ্রাস, বাজার উন্মুক্তকরণ এবং কাঁচামারের স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণের দাবি করে সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে।



