ইউএন ট্যুরিজমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটন থেকে মোট আয় প্রায় ১.৭৪ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, গড় ব্যয়ের উর্ধ্বগতি এবং গন্তব্যস্থলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রধান ভূমিকা রাখে।
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যটন আয়কারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষে থাকা নিশ্চিত। দেশটিতে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, নিউইয়র্কের স্কাইলাইন, লাস ভেগাসের বিনোদন কেন্দ্র এবং ডিজনি থিম পার্কের মতো বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ রয়েছে, যা প্রতি বছর প্রায় আট কোটি (৮০ মিলিয়ন) পর্যটককে আকর্ষণ করে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্কের সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে তুলেছে। গড়ে একজন পর্যটক দেশের মধ্যে এক সফরে চার হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করে, যার মধ্যে বিলাসবহুল হোটেল, উচ্চমানের খাবার, শপিং এবং বিভিন্ন ইভেন্টের খরচ অন্তর্ভুক্ত। এই গড় ব্যয় আন্তর্জাতিক পর্যটন আয়ের মোট পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
দ্বিতীয় স্থানে স্পেন রয়েছে। ২০২৪ সালে স্পেনে প্রায় নয় কোটি চুয়ালিশ লাখ (৯৪ মিলিয়ন) পর্যটক ভ্রমণ করেছে, যা পূর্ববছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে পর্যটন থেকে অর্জিত আয় ১৬ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরে। বার্সেলোনার সাগরাদা ফামিলিয়া, মাদ্রিদের প্রাদো মিউজিয়াম এবং কোস্তা দে’ইবেরার সমুদ্রতীরের মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন স্পেনকে গ্লোবাল পর্যটকদের জন্য প্রধান গন্তব্যে পরিণত করেছে।
তৃতীয় স্থানে ফ্রান্সের অবস্থান রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকলেও ইউরোপীয় পর্যটন বাজারে ফ্রান্সের অবদান উল্লেখযোগ্য। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, লুভর মিউজিয়াম এবং রিভিয়েরা ফ্রঁসের মতো আকর্ষণ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ধারাবাহিকভাবে আকৃষ্ট করে।
এই শীর্ষ দেশগুলোতে পর্যটন আয়ের বৃদ্ধি স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং রিটেইল সেক্টরের জন্য সরাসরি লাভজনক সুযোগ তৈরি করেছে। উচ্চ ব্যয়ের গড় মানে গন্তব্যস্থলের সেবা মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কর আয় বৃদ্ধি। একই সঙ্গে, অবকাঠামো উন্নয়নের চাহিদা বাড়ার ফলে বিমানবন্দর, রেলওয়ে এবং সড়ক নির্মাণে বিনিয়োগের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এই প্রবণতার সঙ্গে কিছু ঝুঁকি যুক্ত রয়েছে। গ্লোবাল পর্যটন বাজারের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ফলে অর্থনৈতিক মন্দা, ভৌগোলিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা পরিবেশগত সংকটের সময় আয় হ্রাসের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, উচ্চ পর্যটক প্রবাহের ফলে পরিবেশগত চাপ, স্থানীয় সংস্কৃতির উপর প্রভাব এবং অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই গন্তব্যস্থলগুলোকে টেকসই পর্যটন নীতি গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটন আয়ের প্রবণতা আরও উর্ধ্বগামী হতে পারে, যদি গন্তব্য দেশগুলো ডিজিটাল বুকিং, স্মার্ট সিটি প্রযুক্তি এবং ব্যক্তিগতকৃত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদান করতে সক্ষম হয়। এছাড়া, পোস্ট-করোনাভাইরাস যুগে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার মানদণ্ড উচ্চতর হওয়ায় গন্তব্যস্থলগুলোকে এই চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন এবং ফ্রান্সের মতো দেশগুলো পর্যটন আয়ে শীর্ষে রয়েছে, যা গ্লোবাল অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনরায় নিশ্চিত করে। তবে টেকসইতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই সেক্টরের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।



