বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসিক এখন পর্যন্ত যুক্তিসঙ্গত দক্ষতা প্রদর্শন করেছে এবং পার্টি তাদের উদ্বেগগুলো কমিশনের সামনে উপস্থাপন করেছে। ফখরুলের এই বক্তব্যের পটভূমিতে শ্রী জিয়াুর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শোকস্মৃতি অর্পণ করা হয়।
ফখরুল বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত দেখেছি নির্বাচন কমিশন যুক্তিসঙ্গতভাবে কাজ করছে। আমরা আমাদের উদ্বেগগুলো কমিশনের সামনে রেখেছি এবং আমরা বিশ্বাস করি ইসিক এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবে।” তার এই মন্তব্যে পার্টির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতি আস্থা প্রকাশ পায়।
বিএনপি পূর্বে বহুবার ইসিকের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। এই ধারাবাহিকতা পার্টির নির্বাচনী কৌশলকে স্থিতিশীল করে এবং ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। ইসিকের পূর্ববর্তী পদক্ষেপগুলোকে ভিত্তি করে আজকের মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন।
শ্রী জিয়াুর রহমানের সমাধিতে শোকস্মৃতি অর্পণ অনুষ্ঠানটি ৯০তম জন্মবার্ষিকীর বিশেষ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির উচ্চপদস্থ নেতারা শ্রী জিয়াুর স্মরণে ফুলের মালা অর্পণ করেন এবং শোকের পরিবেশে একত্রিত হন। এই অনুষ্ঠানটি বিএনপির ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও শ্রী জিয়াুর আদর্শের প্রতি সম্মান জানাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।
ফখরুল উল্লেখ করেন, শ্রী জিয়াুর স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি নেতারা একত্রে শপথ নিয়েছেন। তারা স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই শপথের মাধ্যমে পার্টি তার প্রতিষ্ঠাতা শীর্ষের দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেছে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ময়ীন খান, মির্জা আব্বাস, গায়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা সমাবেশে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংগঠনের শক্তি প্রকাশ করে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। ফখরুলের ইসিকের প্রতি আস্থা পার্টির নির্বাচনী কৌশলকে শক্তিশালী করে এবং ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। ইসিকের কার্যকরী পরিচালনা হলে নির্বাচনের ফলাফলকে ন্যায়সঙ্গত ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে।
পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে এবং বিএনপি কীভাবে তার প্রচারণা চালাবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে। শ্রী জিয়াুর জন্মবার্ষিকীর এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানের পর পার্টি তার নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার সংকেত দিয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, এটাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের মূল দাবি।



