গাজা অঞ্চলের চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে গঠিত “বোর্ড অব পিস”-এ দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ—ভারত ও পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য গাজার সংকটকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিস্তৃত বৈশ্বিক সংঘাতের সমাধানে নতুন কূটনৈতিক মঞ্চ গঠন করা।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রেরিত আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের বিষয়টি ভারতের একটি ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে জানিয়েছেন যে, আমন্ত্রণ পত্র ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে, তবে ভারত এখনও চূড়ান্তভাবে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে “বোর্ড অব পিস”‑এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের ইচ্ছা রয়েছে এবং ইসলামাবাদে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক।
এই উদ্যোগের পটভূমি গাজার মানবিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ। ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করে গাজার পরিস্থিতি শমনে সহায়তা করতে চায়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এখন পর্যন্ত মোট ৬০টি দেশের প্রতি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অতীতে জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস এবং পাকিস্তান ইতিমধ্যে আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে কানাডা, তুরস্ক, মিশর, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং আলবেনিয়াও আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন দেশগুলো চূড়ান্তভাবে বোর্ডে যোগদান করবে, তার সম্পূর্ণ তালিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, গাজা সংকটকে কেন্দ্র করে গঠিত এই শান্তি মঞ্চ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্তরে সংঘাতমুক্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মতো পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোর অংশগ্রহণে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ভারতীয় দিক থেকে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের অভাব রয়েছে। সরকারী সূত্রের মতে, আমন্ত্রণের পর্যালোচনা চলমান এবং দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা নীতি এবং গাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ইতিমধ্যে তার অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে প্রস্তুত।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গাজার মানবিক সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর অস্থিরতা কমাতে চায়। “বোর্ড অব পিস”-এর কাঠামোতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিয়মিতভাবে সমাবেশ করে শান্তি প্রস্তাব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করবে বলে ধারণা।
যদি ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই এই মঞ্চে যোগদান করে, তবে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে এবং গাজার সংকট সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, যদি কোনো দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে বা অংশগ্রহণে অনিচ্ছুক হয়, তবে বোর্ডের কার্যকারিতা ও প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।
সর্বশেষে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গাজার মানবিক সংকটের সমাধান এবং বৈশ্বিক শান্তি সংলাপের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে কোন দেশগুলো চূড়ান্তভাবে বোর্ডে যুক্ত হবে এবং এই মঞ্চের মাধ্যমে কী ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ গৃহীত হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে বিশেষ মনোযোগ পাবে।



