১৯ জানুয়ারি সোমবার, দুপুর ১১টার কাছাকাছি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীর উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলে আশা করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা বজায় রাখতে চায়, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আস্থা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
বিএনপি ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছে যে বিষয়গুলোতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, সেগুলোকে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন এবং বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, দলটি সব ধরণের সমস্যার সমাধানে কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
কিছু দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের বাছাই প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো সমস্যা দেখা দেয়, যা নতুন কোনো বিষয় নয়। তিনি এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য না করে, ভবিষ্যতে প্রক্রিয়ার উন্নতির আশা প্রকাশ করেন।
সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা একত্রিত হন। শেহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিনের এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমবেত হন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং সমাধিতে মোনাজাত করে শেহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সম্মান জানালেন। এই সমাবেশে দলীয় ঐক্য ও জাতীয় গৌরবের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিএনপি জোর দিয়ে বলেছে, শেহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের আলোকে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে দলটি সব ধরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা প্রকাশ করা বিএনপির জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাস জাগাতে সহায়তা করবে। দলটি এই আস্থা বজায় রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিশ্বাসের এই প্রকাশ ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে এবং শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় পরিবর্তন আনতে পারে। তারা বলেন, ভবিষ্যতে এই আস্থা বজায় রাখা বা না রাখা ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি আগামী সময়ে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরবে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। দলটি নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



