সকাল সাড়ে আটটায় চট্টগ্রামমুখী চট্টগ্রাম‑ঢাকা মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার নিজামপুর বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং কাত হয়ে পড়ে। ট্রাকের ওপর লোড থাকা শতাধিক সিলিন্ডার ছড়িয়ে পড়ে এবং সড়কের দুমড়ে-মুচড়ে অংশে গড়াগড়ি খায়। দুর্ঘটনা স্থানে সড়ক বিভাজকের ওপর অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায়, যাকে পথচারী বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর চট্টগ্রামমুখী লেনটি অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ওই লেনের গাড়ি চলাচল বিকল্প রাস্তায় সীমিত গতি বজায় রেখে চালাতে বাধ্য হয়। নিজামপুর বাজার থেকে বড়তাকিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে গাড়ি চলাচল ধীর হয়ে যান এবং দীর্ঘমেয়াদী যানজটের সৃষ্টি হয়। ট্রাফিকের এই ব্যাঘাতের ফলে বহু যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি দেরি অনুভব করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্যান চালক মো. সালাউদ্দিনের মতে, ট্রাকটি হঠাৎ গতি হারিয়ে সড়ক বিভাজকের দিকে ধাবিত হয় এবং ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাত হয়ে পড়ে। ট্রাকের গড়িয়ে পড়ার ফলে সিলিন্ডারগুলো রাস্তার বিভিন্ন দিকে ছিটকে পড়ে, যা পথচারী ও গাড়ি চালকদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে। দুর্ঘটনা ঘটার পর কিছু লোক সিলিন্ডার চুরি করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় মানুষগুলো তা রোধ করে এবং সিলিন্ডারগুলো নিরাপদে রাখার জন্য তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয় এবং প্রায় সকাল দশটায় কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট শামীম হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। উদ্ধারকাজের মধ্যে মৃতদেহের পরিচয় নির্ণয়ের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাকের চালক ও সহকারী দুজনের whereabouts এখনো অজানা, তাই পুলিশ তাদের সন্ধানে ত্বরান্বিত কাজ করছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনা স্থানে হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্য সকাল ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন না। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্রুত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও সিলিন্ডার সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়। সিলিন্ডারগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ গাড়ি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, যাতে সম্ভাব্য বিস্ফোরণ বা আগুনের ঝুঁকি কমে।
গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের নিয়ন্ত্রণহীনতা ও সড়কে সিলিন্ডার ছড়িয়ে পড়া একটি গুরুতর নিরাপত্তা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ট্রাকের লোডিং ও রুট পরিকল্পনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া সিলিন্ডার পরিবহনের সময় সঠিকভাবে বেঁধে রাখার এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ ও দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাকের মালিকানা, রুট অনুমোদন ও লোডিং পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চালক ও সহকারীর সন্ধানে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হতে পারে।
দুর্ঘটনা স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার ছড়িয়ে পড়ার ফলে সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। সিলিন্ডারগুলো যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে গ্যাসের লিক বা বিস্ফোরণের সম্ভাবনা থাকে, যা আশেপাশের মানুষ ও পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই সড়কে সিলিন্ডার ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় দ্রুত সিলিন্ডার সংগ্রহ ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা জরুরি।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত গার্ড পোস্ট স্থাপন করেছে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অস্থায়ী সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করেছে। এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডারবাহী যানবাহনের রুট ও লোডিং নিয়মাবলী পুনর্বিবেচনা করে সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানার পর স্থানীয় মানুষ ও যাত্রীদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডারযুক্ত যানবাহনের কাছাকাছি থাকলে দ্রুত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে এবং কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ বা শব্দ শোনালে তৎক্ষণাৎ হাইওয়ে পুলিশের কাছে জানাতে।
হাইওয়ে পুলিশের মতে, দুর্ঘটনা স্থানে তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বর্তমানে ট্রাফিক পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে এবং রাস্তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



