ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ভ্যান চালকদের শ্রমিকগণ, চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তবে মানববন্ধনের পাশাপাশি তারা বাড্ডা ফুজি টাওয়ার সমীপের মূল সড়কে বাধা সৃষ্টি করে, যার ফলে এলাকার গাড়ি চলাচল ধীর হয়ে যায়। এই ঘটনা ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে থাকা প্রায় দুই লাখ একচল্লিশ হাজার রিকশা ও ভ্যানকে প্রভাবিত করেছে।
প্রতিবাদকারীরা মূলত রিকশা ও ভ্যানের চলাচল সীমাবদ্ধতা দূর করে, রুটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেছেন। তারা মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী মানববন্ধন ছাড়া কোনো সড়ক অবরোধের কথা আগে জানানো হয়নি।
পুলিশের মতে, শ্রমিকদের কর্মসূচিতে সড়ক অবরোধের পূর্বে কোনো ঘোষণা বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তারা শুধুমাত্র মানববন্ধন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, কিন্তু কর্মসূচি চলাকালে অটোরিকশা চালকরা বাড্ডা ফুজি টাওয়ার সমীপে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এই বাধা সৃষ্টি করা কর্মসূচি ঢাকা বৃহত্তর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদটি রিকশা ও ভ্যান চালকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ ও সমাবেশের আয়োজন করে আসছে।
ট্রাফিক গুলশান বিভাগও অবরোধের প্রভাব সম্পর্কে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যাত্রীদের বিকল্প রুট ব্যবহার করার আহ্বান জানায়। বিভাগটি উল্লেখ করে যে, বাড্ডা ফুজি টাওয়ার সমীপে মূল সড়ক বন্ধ থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় বাড়তে পারে।
বিকল্প রুট হিসেবে গুলশান-১ ও গুলশান-২ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রামপুরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড বা উত্তরা দিকের যাত্রীরা বাড্ডা লিংক রোড থেকে বামে ঘুরে গুলশান-১ হয়ে গুলশান-২ পথে যেতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরা থেকে আসা গাড়িগুলোকে বাড্ডা রুট এড়িয়ে মহাখালী রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
অবরোধের ফলে বাড্ডা, রামপুরা এবং আশপাশের এলাকায় যান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে যায়। অফিসে যাওয়া কর্মচারী, ছাত্র ও সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়। কিছু গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে থেমে থাকে, ফলে জ্বালানি খরচ ও সময়ের ক্ষতি বাড়ে।
পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং অবরোধের সময় কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা যাচাই করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্যই, ভবিষ্যতে এমন ধরনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধের পূর্বে যথাযথ অনুমোদন ও বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা উচিত, যাতে যানজট ও জনসাধারণের অস্বস্তি কমে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও সিটি কর্পোরেশনকে এই বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় করে, রিকশা ও ভ্যান চালকদের বৈধ দাবি ও সড়ক নিরাপত্তা দুটোই নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ অবরোধের সময় গৃহীত বিকল্প রুটের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করবে।



