বিনোদন জগতের পরিচিত অভিনেতা রন্ধিপ হুডা সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ নেন। তিনি টেইনপ্রো নামের একটি ভারতীয় ব্র্যান্ডে বিনিয়োগকারী হিসেবে যোগ দেন, যা দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে পরিষ্কার ও সহজ সমাধান প্রদান করে। এই সিদ্ধান্ত তার স্বাস্থ্য সচেতন জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানা যায়।
টেইনপ্রো ২০২৩ সালে তিনজন উদ্যোক্তা—চিন্ময় বারিক, রাঘব গুপ্ত এবং ক্ষিতিজ শোকিন—দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা ভারতীয় খাবারের প্রোটিন ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যে একটি ওয়েলনেস ব্র্যান্ড গড়ে তুলেছেন, যেখানে প্রোটিন ও এনার্জি বার প্রধান পণ্য হিসেবে বাজারে এসেছে।
ব্র্যান্ডের পণ্যগুলো বিশেষভাবে সক্রিয় জীবনযাপনকারী, দীর্ঘ কর্মদিবসের মানুষ এবং অতিরিক্ত ফিটনেসের চাহিদা না থাকা গ্রাহকদের জন্য তৈরি। এদের লক্ষ্য হল অতিরিক্ত চিনি, সংরক্ষণকারী বা কৃত্রিম উপাদান ছাড়া স্বাভাবিক পুষ্টি সরবরাহ করা, যাতে ব্যবহারকারী সহজে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে পারেন।
রন্ধিপ হুডা এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার কারণকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, স্ক্রিনের বাইরে কোনো সংযুক্তি তার জীবনের বাস্তবতা ও সততার সঙ্গে মিল না থাকলে তিনি তা গ্রহণ করেন না। তাই টেইনপ্রোর সরলতা ও স্বচ্ছ ধারণা তাকে আকৃষ্ট করেছে।
উদ্যোক্তা দলের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎকালে হুডা লক্ষ্য করেন যে তারা অতিরিক্ত ফিটনেস ট্রেন্ডের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের পুষ্টিগত চাহিদা পূরণে মনোযোগী। প্রতিষ্ঠাতারা কোনো অতিরিক্ত প্রচার বা চরম পদ্ধতি ব্যবহার না করে সহজে গ্রহণযোগ্য পণ্য তৈরি করতে চেয়েছেন, যা হুডার সঙ্গে মানানসই হয়েছে।
হিন্দুস্তানের প্রচলিত খাবার প্রোটিনের ক্ষেত্রে প্রায়শই অপর্যাপ্ত থাকে, এ বিষয়টি হুডা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিনের পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকায় অনেক মানুষ পুষ্টিগত ঘাটতি অনুভব করে। টেইনপ্রোর বারগুলো শুধুমাত্র শারীরিক প্রশিক্ষণকারী নয়, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও সক্রিয় রুটিনের মানুষদের জন্যও উপযোগী।
প্রোডাক্টের গঠন সম্পর্কে হুডা জোর দেন যে এতে কোনো অতিরিক্ত চিনি বা সংরক্ষণকারী যোগ করা হয় না। এই পরিষ্কার পদ্ধতি তাকে আকৃষ্ট করেছে, কারণ তিনি নিজের জীবনযাত্রায় স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর খাবারকে অগ্রাধিকার দেন।
টেইনপ্রো বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শহরে অনলাইন ও অফলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেজিংয়ে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আধুনিক গ্রাহকের পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ব্র্যান্ডের লক্ষ্য হল প্রোটিনের ঘাটতি দূর করে সাধারণ মানুষের খাবারকে সমৃদ্ধ করা, যাতে তারা অতিরিক্ত ক্যালোরি বা অপ্রয়োজনীয় উপাদান ছাড়া পুষ্টি পায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি হুডার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নীতির সঙ্গে মিলে যায়।
হুডা এই বিনিয়োগকে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে তিনি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়াতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি শুধু আর্থিক অংশীদার নয়, বরং পণ্য উন্নয়ন ও ব্র্যান্ডের দৃষ্টিভঙ্গিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান।
টেইনপ্রোর প্রতিষ্ঠাতারা হুডার সঙ্গে কাজ করার সময় নতুন পণ্য লাইন এবং বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। তারা বিশ্বাস করেন, হুডার জনপ্রিয়তা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা ব্র্যান্ডের পৌঁছাকে বাড়াবে এবং আরও বেশি মানুষকে সঠিক পুষ্টি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে।
সারসংক্ষেপে, রন্ধিপ হুডার টেইনপ্রোতে বিনিয়োগ তার স্বাস্থ্যমুখী জীবনধারা ও সৎ ব্যবসায়িক নীতির প্রতিফলন। ব্র্যান্ডের পরিষ্কার, চিনি-মুক্ত এবং প্রোটিন-সমৃদ্ধ পণ্যগুলো ভারতীয় বাজারে একটি নতুন বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা দৈনন্দিন পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।



