ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রুমিন ফারহানা, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শো-কার্স নোটিশ পেয়েছেন। নোটিশটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিপি ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আখতার জাহানের স্বাক্ষরে গত রাত্রি জারি করা হয় এবং রুমিনকে ২২ জানুয়ারি সকাল ১১ টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসে উপস্থিত হয়ে তার কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ আছে, শনিবার বিকেল প্রায় ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে রুমিন ফারহানা ইস্লামপুর, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন, সারাইল উপজেলার একটি সমাবেশের আয়োজন করেন। ঐ সমাবেশে প্রায় চারশো থেকে পাঁচশো জনের উপস্থিতি ছিল এবং তিনি একটি বড় মঞ্চ গড়ে মাইক্রোফোনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ভাষণ দেন।
এই ধরনের সমাবেশ ও মঞ্চ স্থাপন ২০২৫ সালের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ, যা নির্বাচনী কোডের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত। সমাবেশের সময় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্টের আদেশে তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে রুমিন ফারহানা আদেশের পরেও সমাবেশ চালিয়ে যান এবং তার আচরণকে শো-কার্স নোটিশে “অহংকারী” ও “অশোভন” বলা হয়েছে। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতি বিভিন্ন হুমকি জানিয়ে সমাবেশ অব্যাহত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
রুমিনের একটি অশোভন অঙ্গভঙ্গি, যেখানে তিনি থাম্ব গেস্টার দিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতি তিরস্কার করেন, তা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটাই তাদের দেখানো, আর নির্বাচনী কর্মকর্তারা কিছুই করেন না,” এমন মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে সমালোচনা করেন।
রুমিনের সমর্থকগণও সমাবেশে আক্রমণাত্মক আচরণ করে, গোষ্ঠী গঠন করে এবং বিচারিক দায়িত্বে বাধা সৃষ্টি করে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে শো-কার্স নোটিশে স্পষ্টভাবে নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমাবেশের ঘটনা সামাজিক মিডিয়া, ইলেকট্রনিক ও মুদ্রণ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমত নেতিবাচক দিকের দিকে ঝুঁকে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ পায়, যা রুমিনের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
এর আগে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সারাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবারকার সরকার রুমিন ফারহানার গোষ্ঠী গঠন ও সমাবেশে হিংসাত্মক আচরণের অভিযোগে একটি পৃথক চিঠি জমা দেন। ঐ চিঠি নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জাজ আশরাফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে রুমিনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। শো-কার্স নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রুমিন যদি নির্ধারিত তারিখে রিটার্নিং অফিসে না আসেন, তবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এই নোটিশের ফলে রুমিনের নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। তার উপস্থিতি না থাকলে তার সমর্থক গোষ্ঠীর কার্যক্রমে বাধা আসবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই ঘটনাটি নির্বাচনী কোডের প্রয়োগ ও তার কঠোরতা সম্পর্কে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। রিটার্নিং অফিসের এই পদক্ষেপ নির্বাচনী ন্যায়বিচার রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য সতর্কতা স্বরূপ কাজ করবে।
শো-কার্স নোটিশের শেষ অংশে রুমিন ফারহানাকে আইনি পরিণতি এড়াতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত হয়ে তার কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।



