ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও রেটরিকের পরিবর্তন ইউরোপীয় সরকারগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মিত্রতার প্রশ্ন তুলেছে। ট্রাম্পের শাসনকালে ইউরোপকে শুল্ক, অপমান ও রাজনৈতিক উপহার গ্রহণের পরও কোনো প্রকাশ্য সমালোচনা না করা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড বিষয়টি দুই মহাদেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে ইউরোপকে “সভ্যতাগত বিলুপ্তির” মুখে হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং ইউরোপের ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী দলগুলোর প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার দাবি জানিয়ে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।
গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে ইউরোপীয় নেতারা ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করে এবং ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে কোনো সমালোচনা করেনি। ট্রাম্পের শীঘ্রই ঘোষণায়, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করা আটটি ইউরোপীয় দেশ, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যও অন্তর্ভুক্ত, অতিরিক্ত শুল্কের শিকার হবে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইউরোপ ইতিমধ্যে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন থাকবে না। ন্যাটোকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া চালানোর ধারণা এখন ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সক্রিয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রু কুবিলুস গত সপ্তাহে ইউরোপে মোতায়েনকৃত এক লক্ষাধিক মার্কিন সৈন্যের বিকল্প কী হতে পারে তা নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান। তিনি একটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদের গঠন প্রস্তাব করেন, যা যৌথ সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয় করবে।
সুইডেনের জাতীয় প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদকে স্মরণ করে, ইউরোপীয় নেতারা নিরাপত্তা নীতির পুনঃপর্যালোচনা ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা দাবি উভয়ই ইউরোপীয় নিরাপত্তা কৌশলের পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করেছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের পুনঃসংজ্ঞা করার সময়ে পৌঁছেছে। ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ, ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি কীভাবে ইউরোপীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে, এসব বিষয়ের উপর নিকট ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



