যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের তদারকি সংস্থা “বোর্ড অব পিস”‑এ পাকিস্তানকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই আমন্ত্রণটি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি রবিবারের একটি বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে গাজার শান্তি পর্ষদে অংশগ্রহণের প্রস্তাব পেয়েছেন এবং জাতিসংঘের উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গাজার স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় দেশটি যুক্ত হবে।
গাজার দুই বছরব্যাপী বোমাবর্ষণের পর, ট্রাম্পের ২০‑ধাপের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তরে “বোর্ড অব পিস” গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ষাটটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এই পর্ষদে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে তুরস্ক, মিসর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মরক্কো, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া অন্তর্ভুক্ত।
বোর্ডের সনদে গাজার নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, ট্রাম্প এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। শুক্রবার ট্রাম্প মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শীর্ষ আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফকে বোর্ডের নির্বাহী প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদানও এই বোর্ডের সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত, যদিও ইসরায়েল গাজায় তুরস্কের কোনো ভূমিকা নিয়ে বিরোধিতা করে আসছে।
নির্বাহী প্যানেলে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী সিগরিড কাগ, ইসরায়েলি-সাইপ্রাসি ধনকুবের ইয়াকির গাবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সদস্যদের উপস্থিতি বোর্ডকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন অর্জনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশটি গাজার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। পাকিস্তান সরকার গাজার মানবিক সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক, তবে তুরস্কের গাজা সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপে ইসরায়েলের আপত্তি নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্পের উদ্যোগের ফলে গাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে উঠতে পারে। তবে বোর্ডের কার্যকারিতা ও প্রভাব নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত ইচ্ছা ও সম্পদের উপর। গাজার অবস্থা উন্নত করতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন, যা এই পর্ষদে আলোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্য।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, গাজার শান্তি পর্ষদে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে, বিশেষ করে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে। একই সঙ্গে, তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকা এবং অন্যান্য প্রধান দেশগুলোর অংশগ্রহণ গাজার পুনর্গঠনকে বহুমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থন দেবে। তবে ইসরায়েলের বিরোধিতার কারণে তুরস্কের ভূমিকা সীমাবদ্ধ হতে পারে, যা পর্ষদের সমন্বয় ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
আসন্ন মাসগুলোতে বোর্ড অব পিসের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই সভা গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অর্জনে সহায়ক হবে। গাজার জনগণ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের পথে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত শান্তি পর্ষদে পাকিস্তানের যোগদানের আমন্ত্রণ গাজার স্থায়ী শান্তি ও পুনর্গঠনের জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সূচনা নির্দেশ করে। পর্ষদে যুক্ত দেশগুলোর সমন্বিত ইচ্ছা, তুরস্কের ভূমিকা এবং ইসরায়েলের অবস্থান গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মূল বিষয় হবে।



