20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বোর্ডে সদস্যপদে এক বিলিয়ন ডলার শর্তের খসড়া চাটার প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বোর্ডে সদস্যপদে এক বিলিয়ন ডলার শর্তের খসড়া চাটার প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্রায় ষাট দেশের কাছে একটি খসড়া চাটার পাঠিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো দেশ যদি তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য শান্তি বোর্ডে সদস্যপদ বজায় রাখতে চায়, তবে প্রথম বছরে এক বিলিয়ন ডলার নগদ অবদান রাখতে হবে। এই চাটার প্রথমবারের মতো ব্লুমবার্গ নিউজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

চাটার অনুসারে, “প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর হবে, যা চাটার কার্যকর হওয়ার পর থেকে গণনা শুরু হবে এবং চেয়ারম্যানের অনুমোদনে নবায়ন করা যাবে।” তবে, যদি কোনো দেশ প্রথম বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ প্রদান করে, তবে এই তিন বছরের সীমা তার উপর প্রযোজ্য হবে না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে এবং তিনি এই বোর্ডের সূচনা সভায় প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। বোর্ডের নাম “গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড” হিসেবে পরিচিত, এবং এতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদান ও কাতারের একটি কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ঘোষণাটি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে শুক্রবার প্রকাশিত হয়।

শুক্রবারের পরে, শনিবারে বোর্ডের গঠন শুরু হয়, যেখানে মিশর, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, কানাডা এবং পাকিস্তানের নেতাদেরকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। হোয়াইট হাউস এই প্রতিবেদনের প্রতি “ভুল তথ্যপূর্ণ” বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উল্লেখ করেছে যে বোর্ডে যোগদানের জন্য কোনো ন্যূনতম ফি নির্ধারিত নেই।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এটি এমন অংশীদার দেশগুলোর জন্য স্থায়ী সদস্যপদ প্রদান করে যারা শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখায়।” এই মন্তব্যটি টুইটারে প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে পূর্বে ট্রাম্প ও তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সামাজিক মিডিয়া পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে রাজা আবদুল্লা ট্রাম্পের কাছ থেকে বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। একই সময়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে দেশের প্রতিনিধিদেরকে “শান্তি বোর্ড”-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনার তীব্রতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে বড় অবদান রাখতে সক্ষম। এক বিলিয়ন ডলারের শর্তটি কিছু দেশকে দীর্ঘমেয়াদী সদস্যপদ থেকে বাদ দিতে পারে, আর অন্যদিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোকে স্থায়ী সদস্যপদের সুবিধা দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কাঠামোতে তার নেতৃত্বকে দৃঢ় করতে চায়। তবে, শর্তের কঠোরতা ও আর্থিক বাধা নিয়ে কিছু দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে বোর্ডের কার্যকারিতা ও স্বীকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরবর্তী ধাপে, চাটার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ও কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হবে, এবং সদস্য দেশগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের আর্থিক অবদান জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে, বোর্ডের কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও লক্ষ্যসমূহের বিস্তারিতও প্রকাশ করা হবে।

এই নতুন শান্তি বোর্ডের গঠন ও শর্তাবলী আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমানে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র এই কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় নিজস্ব অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments