ঢাকায় রিকশা সেবার অধিকাংশই আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়া চলছে, এমন ফলাফল সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাটারি চালিত রিকশার ৯৭.৪ শতাংশ এবং পেডাল রিকশার ৮৫.৯৪ শতাংশই নিবন্ধন ব্যবস্থার বাইরে কাজ করছে।
এই অননুমোদিত রিকশার সংখ্যা শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ব্যাটারি রিকশা, যাকে স্থানীয়ভাবে “বাংলা টেসলা” বলা হয়, দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও নিয়মাবলী অনুসরণে পিছিয়ে রয়েছে।
ড্রাইভারদের বয়সের দিক থেকে দেখা যায়, ব্যাটারি রিকশা চালকদের গড় বয়স ৩৮ বছর, যেখানে পেডাল রিকশা চালকদের গড় বয়স ৪২ বছর। এছাড়া, ব্যাটারি রিকশা চালকদের প্রায় ৭৫ শতাংশই প্রথমবারের মতো রিকশা চালাচ্ছেন এবং পূর্বে পেডাল রিকশা চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
এই তথ্যগুলো ঢাকা বাণিজ্যিক ব্যাংক লিমিটেড (BDBL) ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় উপস্থাপিত হয়। গবেষণাটি ইনোভিশন কনসালটিং নামের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের “শহুরে গতি গবেষণা: রিকশা রূপান্তর” শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। গবেষণাটি ঢাকার পেডাল রিকশা থেকে ব্যাটারি রিকশায় দ্রুত পরিবর্তনকে বিশ্লেষণ করেছে।
ব্যাটারি রিকশা নিয়ে চলমান বিতর্কে ট্রাফিক জ্যাম, সড়ক নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান এবং নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো কেন্দ্রীয়। এদিকে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সম্প্রতি BUET অনুমোদিত ব্যাটারি রিকশা নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তের গুরুত্বকে তুলে ধরছে।
গবেষণার ফলাফল ইনোভিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাইয়াত সারওয়ার উপস্থাপন করেন। ডেটা সংগ্রহে ঢাকা জুড়ে ৩৮৪ জন রিকশা চালক, ৩৯২ জন যাত্রী এবং ৬৩টি গ্যারেজের মালিকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত।
আয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাটারি রিকশা চালকরা গড়ে টাকার ৮৮০ টাকার মোট দৈনিক আয় অর্জন করেন, যেখানে পেডাল রিকশা চালকদের গড় আয় টাকার ৫৯৪ টাকা। তবে, ব্যাটারি রিকশা ভাড়া নেওয়া চালকদের জন্য উচ্চ ভাড়া খরচের কারণে নিট আয় পেডাল রিকশা চালকদের তুলনায় কম।
অন্যদিকে, নিজস্ব ব্যাটারি রিকশা চালকরা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আয় করতে সক্ষম। নিজস্ব রিকশা থাকা চালকদের আয় গড়ে পেডাল রিকশা চালকদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা সম্পত্তি মালিকানার আর্থিক সুবিধা নির্দেশ করে।
অধিকাংশ ব্যাটারি রিকশা চালক ভাড়া এবং মাইক্রোফাইন্যান্স ঋণের ওপর নির্ভরশীল। গড় ঋণের পরিমাণ টাকার ৭৯,৯২৭, যা পেডাল রিকশা চালকদের গড় টাকার ১৮,৬৫৪ ঋণের তুলনায় অনেক বেশি। এই পার্থক্য চালকদের আর্থিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
যাত্রীদের ব্যবহার প্যাটার্নে দেখা যায়, রিকশা মূলত এক থেকে তিন কিলোমিটার সংক্ষিপ্ত দূরত্বের যাত্রার জন্য ব্যবহৃত হয়। ৮২ শতাংশ যাত্রী দ্রুত গতি এবং কম ভাড়া পাওয়ার জন্য ব্যাটারি রিকশা পছন্দ করেন, যা এই সেবার বাজারে ব্যাটারি রিকশার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রকাশ করে।
এই ফলাফলগুলো রিকশা শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। অননুমোদিত রিকশার উচ্চ শতাংশ এবং ড্রাইভারদের আর্থিক দুর্বলতা বিবেচনা করে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, ভাড়া মডেল পুনর্গঠন এবং মাইক্রোফাইন্যান্সের শর্তাবলী পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে, ব্যাটারি রিকশার পরিবেশগত সুবিধা ও বাজার চাহিদা বিবেচনা করে, টেকসই নগর গতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতি গঠন প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা শহরের রিকশা বাজারে ব্যাটারি রিকশার উত্থান দ্রুত ঘটলেও, নিবন্ধন ও আর্থিক কাঠামোর ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।



