22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইসরায়েল গাজা থেকে সাত ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দিল

ইসরায়েল গাজা থেকে সাত ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দিল

ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতের মাঝখানে সাতজন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি করেছে। মুক্তির সিদ্ধান্তটি ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যেখানে মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পদক্ষেপটি গাজার বাড়তে থাকা মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে।

মুক্ত হওয়া বন্দিদের গাজার দক্ষিণে অবস্থিত দেইর আল‑বালাহে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, বন্দিরা দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে যাতে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা যায়। এই প্রক্রিয়াটি গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

গাজার হাসপাতালগুলো বর্তমানে ওষুধ, সরঞ্জাম এবং স্টাফের ঘাটতির মুখোমুখি। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে উদ্বেগে ফেলেছে। বিশেষ করে জরুরি সেবা ও শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহের অভাব স্পষ্ট।

ইসরায়েলি কারাগারে বর্তমানে ৯,৩০০ের বেশি ফিলিস্তিনি আটক রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩,৩৮৫ জনকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই প্রশাসনিক আটক হিসেবে রাখা হয়েছে। এই সংখ্যা পূর্বের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গাজার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজার ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেছে, যার মধ্যে অনাহার, শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং চিকিৎসা সেবা প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। তারা দাবি করে যে এই লঙ্ঘনগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গাজার সীমান্তে সহায়তা সামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তা সীমিত পরিমাণে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বলছে, এই সহায়তা মৌলিক চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত এবং গাজার বাসিন্দারা দুর্ভিক্ষের কিনারায় পৌঁছেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে খাবার, পরিষ্কার পানীয় জল এবং মৌলিক ঔষধের ঘাটতি বাড়ছে, যা জনসংখ্যার স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা গাজার মানবিক সংকটের তীব্রতা তুলে ধরে ইসরায়েলকে সহায়তা প্রবাহ দ্রুততর করার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি ইউরোপীয় বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে এবং মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে।”

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে গাজার মানবিক অবস্থা কীভাবে উন্নত হবে তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নীতি পরিবর্তনের ওপর। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যদি সহায়তা যথেষ্ট না হয়, তবে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়তে পারে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments