বেইজিং ২০২৫ সালের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। শেষ পর্যন্ত দেশটি মোট ৫ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জন করে, যা লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে। এই সাফল্য মূলত রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।
বছরের শেষ তিন মাসে বৃদ্ধির হার ৪.৫ শতাংশে নেমে আসে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ধীরগতি নির্দেশ করে। যদিও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে গতি কমে গেছে, তবু সামগ্রিকভাবে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
চীনের বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত এই বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ডে পৌঁছেছে, মোট মূল্য প্রায় ১.১৯ ট্রিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৮৯০ বিলিয়ন পাউন্ডের সমান। এই পরিমাণ বিশ্বে সর্ববৃহৎ উদ্বৃত্ত হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা বাজারগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি অব্যাহত থাকলেও, চীন অন্যান্য অঞ্চলে বিক্রয় বাড়িয়ে রপ্তানি পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফে সাময়িক শিথিলতা দেখা দেয়, যখন বেইজিং ও ওয়াশিংটন ট্যারিফ স্থগিতের চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকে, যা চীনের রপ্তানিকে অতিরিক্ত সহায়তা করে।
উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বাড়িয়ে চলেছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স ও যন্ত্রপাতি শিল্পে রপ্তানি পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়।
অন্যদিকে, দেশীয় অর্থনীতিতে বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী রিয়েল এস্টেট সংকট এবং স্থানীয় সরকারগুলোর ঋণবহুল অবস্থা ব্যবসায়িক বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে।
উচ্চ ঋণস্তর এবং সম্পত্তি বাজারের অস্থিরতা ভোক্তাদের ব্যয় করার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। ফলে গৃহস্থালী খরচে বৃদ্ধি সীমিত থাকে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বাজার বিশ্লেষকরা রপ্তানি বৃদ্ধিকে স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তবে তারা সতর্ক করছেন যে, যদি বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস পায়, তবে রপ্তানি-নির্ভর বৃদ্ধির গতি দ্রুত কমে যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির স্থিতিশীলতার ওপর। যদি ট্যারিফে কোনো নতুন বৃদ্ধি না হয়, তবে চীন তার রপ্তানি বাজারকে আরও বিস্তৃত করতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ ঋণ ও সম্পত্তি সমস্যার সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। এটি উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতি, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান রপ্তানি গন্তব্যে চাহিদা হ্রাস, চীনের রপ্তানি প্রবাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা উদ্দীপনার পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, চীন ২০২৫ সালের জিডিপি লক্ষ্য রপ্তানি বুমের মাধ্যমে অর্জন করেছে, যদিও দেশীয় বাজারে অব্যাহত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। রপ্তানি-নির্ভর বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশের স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকরা এখন রপ্তানি সুবিধা বজায় রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের পুনরুজ্জীবনের জন্য কাঠামোগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
যদি রিয়েল এস্টেট সংকটের সমাধান এবং স্থানীয় সরকারগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে ভবিষ্যতে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্যারিফ নীতি ও বৈশ্বিক চাহিদার অস্থিরতা রপ্তানি বৃদ্ধির গতি হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, চীনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈচিত্র্যপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য অনুসন্ধান এবং উচ্চ মানের পণ্য উন্নয়নের দিকে মনোযোগ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সর্বোপরি, রপ্তানি বুম এবং রেকর্ড উদ্বৃত্ত চীনের অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে শক্তিশালী করেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যার সমাধানই স্থায়ী প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হবে।



