বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে; ভিসা প্রক্রিয়া, ICC-র সঙ্গে আলোচনার ফলাফল এবং পাকিস্তানের সমর্থন এই বিষয়কে জটিল করে তুলেছে। টুর্নামেন্টের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি, আর এখনো দলটি ভারতের সফর নিশ্চিত করতে পারেনি।
বিপিএলের প্রথম ম্যাচের সময় মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে বেশিরভাগ আসন ফাঁকা ছিল। উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এবং সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনকে দেখা যায়, যারা অন্য একটি ম্যাচের দিকে মনোযোগী ছিলেন।
সিমন্স ও সালাহউদ্দীন রঙপুর রাইডার্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি ম্যাচটি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছিলেন, যদিও তাদের মূল দায়িত্ব দেশের টি-২০ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। এই মুহূর্তে তাদের উপস্থিতি দলীয় পরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্বকাপের সূচি অনুসারে টুর্নামেন্ট মাত্র ১৯ দিন দূরে, এবং ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। পূর্বে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ২৫ জানুয়ারি ভারত সফর করবে, যাতে টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। তবে এখনো ভিসা আবেদন সম্পন্ন হয়নি, যদিও ভিসা ফরম পূরণ করা অবস্থায় রয়েছে।
ইন্ডিয়ায় ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদন না করা সত্ত্বেও দলটি শ্রীলঙ্কায় খেলার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। শ্রীলঙ্কা বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হলে, ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। এই দ্বিমুখী পরিকল্পনা দলকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের নিশ্চিততা এখনো অনিশ্চিত। দলীয় ব্যবস্থাপনা বিসিবিকে জানিয়েছে যে, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সব বিষয় স্পষ্ট হবে। ক্রিকইনফোরের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২১ জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হবে।
গতকাল ICC প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিসিবি ভারত সফর না করার দৃঢ় অবস্থান পুনরায় প্রকাশ করেছে। এই অবস্থানটি দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের মিডিয়া সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভারতীয় মাটিতে ম্যাচ না খেলার দাবিতে সমর্থন জানিয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, যদি বাংলাদেশ তার চাহিদা পূরণ না পায়, তবে পাকিস্তানও বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
পাকিস্তানের জিও নিউজের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারত সফর না করার বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বিসিবি বা বাংলাদেশের সরকার থেকে কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি।
শ্রীলঙ্কায় খেলতে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদলের প্রস্তাবের ওপর ICC ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ার পর, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার খবর উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশকে গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
বিসিবি ICC-র সঙ্গে বৈঠকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য উপায় হিসেবে গ্রুপে অদলবদল প্রস্তাব করেছে, যাতে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপ থেকে ‘বি’ গ্রুপে স্থানান্তরিত হতে পারে। এই প্রস্তাবটি এখনও ICC-র অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে। ভিসা প্রক্রিয়া, ICC-র সঙ্গে আলোচনার ফলাফল এবং পাকিস্তানের সমর্থন সবই এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। শেষ পর্যন্ত কোন দেশেই ম্যাচ হবে এবং দলটি অংশ নেবে কিনা, তা ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্পষ্ট হবে।



