22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগিনি থেকে সিয়েরা লিওনে মানব পাচার শিকার সন্তানদের সন্ধানে পিতার যাত্রা

গিনি থেকে সিয়েরা লিওনে মানব পাচার শিকার সন্তানদের সন্ধানে পিতার যাত্রা

গিনি দেশের ফারানা অঞ্চলের এক দূরবর্তী গ্রাম থেকে ২২ বছর বয়সের পুত্র ও ১৮ বছর বয়সের কন্যা, পাঁচজন সহকর্মীকে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানব পাচারকারীরা ভ্রমণ করায়, পিতা ফোডে মুসা তাদের সন্ধানে সিয়েরা লিওনের মাকেনি শহরে গিয়েছেন।

ফোডে মুসা শেষবারের মতো পুত্রের কাছ থেকে প্রাপ্ত ৭৬ সেকেন্ডের ভয়েস মেসেজে শিশুর কান্না ও সাহায্যের আবেদন শোনেন। শিশুর কণ্ঠে ব্যথা ও হতাশা স্পষ্ট, যা পিতার হৃদয়কে ভেঙে দেয়। তিনি এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, কণ্ঠস্বর শুনে তার চোখে অশ্রু থেমে না।

ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ এই দুই সন্তান ও অন্য পাঁচজনকে বিদেশে কাজের আশ্বাস দিয়ে গ্রাম থেকে বের করা হয়। তবে কাজের কোনো বাস্তবতা না থাকায়, তারা সিয়েরা লিওনের সীমান্ত পার হয়ে আটক হয়। সেখানে তারা মানব পাচারকারীদের হাতে বন্দি হয়ে থাকে এবং আরেকজনকে নিয়োগ না করা পর্যন্ত বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়।

পিতার অভিযোগে গিনির ইন্টারপোল শাখা বিষয়টি গ্রহণ করে, এবং সিয়েরা লিওনের ইন্টারপোল ইউনিটের সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। ইন্টারপোলের সমন্বয়ে গঠিত দল পিতাকে মাকেনি শহরে পৌঁছাতে সহায়তা করে, যেখানে তিনি স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে মিলিত হন।

স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের সদস্যরা মুসাকে তার সন্তানদের অবস্থান জানার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করে। তারা জানায়, মানব পাচারকারীরা প্রায়ই ভুক্তভোগীদেরকে বিদেশে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বড় পরিমাণ অর্থ আদায় করে, তারপর তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে যায় এবং সেখানে আটক রাখে।

এই ধরনের স্ক্যাম পশ্চিম আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে, যার মূল নাম QNET। হংকং ভিত্তিক QNET একটি বৈধ স্বাস্থ্য ও জীবনধারা পণ্য বিক্রির কোম্পানি, তবে অপরাধী গোষ্ঠী এটির নাম ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম চালায়।

অপরাধীরা ভুক্তভোগীদেরকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, দুবাই বা ইউরোপের মতো গন্তব্যে কাজের সুযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে, প্রশাসনিক খরচের নামে বড় অংকের টাকা দিতে বাধ্য করে। অর্থ প্রদান করার পর, ভুক্তভোগীরা প্রায়ই অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদেরকে নতুন শিকারের সন্ধানে নিয়োগ করতে বলা হয়।

এমন নিয়োগের মাধ্যমে তারা পরিবার ও বন্ধুদেরকে স্ক্যামে যুক্ত করে, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো কাজের সুযোগ না দিয়ে তাদেরকে আবারও আটক রাখা হয়। QNET নিজে এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে তার নামের অপব্যবহার ঘটছে বলে কোম্পানি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে।

মুসা জানান, তার হৃদয় ভেঙে গেছে এবং তিনি ক্রমাগত কান্নায় ডুবে আছেন। তিনি আশাবাদী যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় তার সন্তানদের মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।

ইন্টারপোল ও সিয়েরা লিওনের পুলিশ ইউনিটের মতে, এই মামলায় আরও তদন্ত চালু রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতার করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, মানব পাচার বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য শিকারদের সতর্ক করার জন্য তথ্য প্রচার চালু করা হবে।

গিনির সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি মানব পাচার মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই ধরনের জটিল স্ক্যাম থেকে রক্ষা পেতে জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, বিশেষ করে বিদেশে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অপ্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে।

ফোডে মুসার কাহিনী মানব পাচারের ভয়াবহতা ও তার শিকারদের পরিবারে সৃষ্ট বেদনাকে তুলে ধরে, এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের শিকার কমাতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ত্বরিত পদক্ষেপ ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments