যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের ড্যাভোস শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) কেন্দ্রীয় আলোচনায় নতুন মোড় আনবেন। স্বিটজারল্যান্ডের ড্যাভোসে অনুষ্ঠিত এই বছরের সর্ববৃহৎ সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ এবং তার সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড ও কানাডা সম্পর্কিত হুমকি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও ট্যারিফের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিশাল বিতর্কের সূচনা করেছে।
গত বছরই ট্রাম্প প্রথমবার ড্যাভোসে উপস্থিত হন, যখন তিনি হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি লাইভ ভিডিও মাধ্যমে অংশ নেন। তার বক্তৃতায় কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত দাবির ইঙ্গিত এবং আমেরিকায় উৎপাদন বাড়াতে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ট্যারিফের মাধ্যমে বাধ্য করার পরিকল্পনা প্রকাশ পায়। সেই সময়ে ইউরোপীয় ব্যবসায়িক নেতারা বিস্ময় ও অস্বস্তি প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের এই বছরের ড্যাভোসে অংশগ্রহণের ঘোষণা তার পূর্বের উপস্থিতির পরেই আসে। তিনি পূর্বে ড্যাভোসে না আসার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে, এই বছর উপস্থিত হয়ে “Team USA” বার্তাটি প্রচার করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার উপস্থিতি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিশাল আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপে তার নীতিমালা ও অর্থনৈতিক চাপে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নিয়ে।
ড্যাভোসের এই বছর অনুষ্ঠিত সম্মেলনকে “সর্ববৃহৎ ড্যাভোস” বলা হচ্ছে, যা ট্রাম্পের উপস্থিতি এবং তার নীতিমালার প্রভাবের কারণে আরও বিশাল দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ফোরামের আনুষ্ঠানিক থিম “সংলাপের আত্মা” হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি এই থিমের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
ট্রাম্পের বক্তৃতা এবং তার নীতি নিয়ে ইউরোপীয় সরকার ও কর্পোরেট নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সম্ভাবনা এবং ট্যারিফের মাধ্যমে আমেরিকায় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা ইউরোপীয় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ফোরামের অংশগ্রহণকারীরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি প্রশ্নোত্তর সেশনে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই বছরের আলোচনায় “মহা বৈশ্বিক ব্যাঘাত” শিরোনামের অধীনে ট্রাম্পের নীতি ও তার প্রভাবকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফোরামের বিভিন্ন সেশন এবং প্যানেল আলোচনা এই ব্যাঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিশ্লেষণ করবে।
ট্রাম্পের উপস্থিতি এবং তার নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া বৈচিত্র্যময়। কিছু ইউরোপীয় নেতা তার অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, আবার কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগের সম্ভাবনা দেখছে। তবে, ফোরামের মূল লক্ষ্য হল বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা, যা বর্তমান প্রশাসনের কিছু নীতি ও রেটোরিকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ড্যাভোসের এই বৃহৎ সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তৃতা এবং তার নীতিমালা কীভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে। ফোরামের শেষ পর্যন্ত, অংশগ্রহণকারীরা ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিত্তিতে কী ধরনের নীতি পরিবর্তন বা সমঝোতা হবে তা নিয়ে আলোচনা করবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



