ইনার মঙ্গোলিয়ার বাওগ্যাং ইউনাইটেড স্টিল কারখানায় রবিবার বিকেল প্রায় ১৫:০০ টায় বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনায় দুই কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, ৮৪ জন আহত হয়েছেন এবং পাঁচজন কর্মীর অবস্থান এখনও অজানা। স্থানীয় সময়ে ধোঁয়ার বিশাল কলা আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, আশেপাশের ভূকম্পনও অনুভূত হয়।
বিস্ফোরণের পর জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের আঘাত গুরুতর বলে জানানো হয়েছে, বাকি রোগীরা হালকা থেকে মাঝারি আঘাতের মধ্যে রয়েছে। পাঁচজন কর্মী এখনও অনুপস্থিত, তাদের সন্ধানে অনুসন্ধান চালু রয়েছে।
বাওগ্যাং ইউনাইটেড স্টিল চীনের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত লোহার ও ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এই কারখানা দেশের উত্তরাঞ্চলে কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণ ও ইস্পাত উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বিস্ফোরণের ফলে উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে স্থানীয় ও জাতীয় ইস্পাত সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
শিল্প বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, বাওগ্যাং ইউনাইটেড স্টিলের উৎপাদন হ্রাসের ফলে ইস্পাতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নির্মাণ ও অটোমোবাইল সেক্টরে কাঁচামালের দামের ওঠানামা প্রত্যাশিত। তবে কোম্পানির বৃহৎ স্টক এবং বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।
বৈশ্বিক ইস্পাত বাজারে চীনের অংশীদারিত্বের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বিনিয়োগকারীরা চীনা ইস্পাত শিল্পের ঝুঁকি মূল্যায়নে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন।
চীনের শিল্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলী কঠোর হলেও, অতীতের বহু দুর্ঘটনা এই নীতিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকার দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে এবং কারণ নির্ণয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দায়িত্ব অর্পণ করেছে। ফলাফল অনুসারে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা হতে পারে।
চীনের শিল্প দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৫ সালে তিয়ানজিন বন্দর থেকে দুটি বড় বিস্ফোরণ ঘটায় ১৭৩ জনের মৃত্যু এবং শত শত আহত। এছাড়া গত মে শানডং প্রদেশের একটি রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে পাঁচজনের মৃত্যু এবং অন্তত ১৯ জনের আঘাত হয়। এসব ঘটনা দেশের শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।
বাওগ্যাং ইউনাইটেড স্টিলের মতো বড় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্নবীকরণ প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রা ও রসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাজ করা কারখানাগুলোতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কর্মী প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাজারে এই ঘটনার তাত্ক্ষণিক প্রভাব সীমিত হলেও, দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত ইস্পাতের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এটি নির্মাণ প্রকল্পের সময়সূচি ও খরচে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে চীনের দ্রুত নগরায়ন প্রকল্পগুলোতে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, যদি তদন্তে নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ পায়, তবে সরকার কঠোর শাস্তি ও নিয়মাবলী প্রয়োগ করতে পারে। এটি শিল্পখাতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্য মূল্যে প্রতিফলিত হবে।
বাওগ্যাং ইউনাইটেড স্টিলের শেয়ার মূল্যের উপর সরাসরি প্রভাব দেখা যাবে না, কারণ কোম্পানি সরকারী মালিকানাধীন এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী ও সাবকন্ট্রাক্টরদের আর্থিক অবস্থায় চাপ বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইনার মঙ্গোলিয়ার এই দুর্ঘটনা চীনের ইস্পাত শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। উৎপাদন বন্ধের ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি এবং দাম ওঠানামা হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মাবলীর কঠোরতা শিল্পের স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে।



