ডেলয়েটের সর্বশেষ নারী ফুটবল ক্লাব আয় র্যাঙ্কিংয়ে আর্সেনাল প্রথম স্থানে বসে, চেলসিকে সামান্য অতিক্রম করে শীর্ষে পৌঁছেছে। এই তালিকায় ইউরোপের ১৫টি সর্বোচ্চ আয়কারী ক্লাব অন্তর্ভুক্ত, আর আর্সেনালের মোট আয় ২৫.৬ মিলিয়ন ইউরো (২২.২ মিলিয়ন পাউন্ড) রেকর্ড হয়েছে।
আর্সেনালের আয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল ম্যাচডে আয়, যা প্রায় ৭ মিলিয়ন ইউরো। এই পরিমাণ অন্যান্য ক্লাবের দ্বিগুণের কাছাকাছি, এবং পুরো মৌসুমে তাদের গৃহস্থলীর ম্যাচগুলো এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সম্ভব হয়েছে। বর্তমান মৌসুমে গড়ে ৩৫,০০০ এরও বেশি দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়, যা আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
চেলসির মোট আয় আর্সেনালের চেয়ে কম হলেও, তাদের বাণিজ্যিক আয় সর্বোচ্চ, যা ১৯.১ মিলিয়ন ইউরো। স্পনসরশিপ ও পার্টনারশিপের মাধ্যমে অর্জিত এই আয় তালিকায় শীর্ষ ১৫টি ক্লাবের মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
ডেলয়েটের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের NWSL ক্লাব, অস্ট্রেলিয়া ও সুইডেনের ক্লাবগুলো অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ তাদের আর্থিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ, ব্রাজিল ও জাপানের ক্লাবগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জাপানের সানফ্রেচে হিরোশিমা রেজিনা ১৪তম স্থানে রয়েছে, যা তালিকায় এশিয়ার উপস্থিতি নির্দেশ করে।
এই র্যাঙ্কিংটি ডেলয়েটের চতুর্থ বছর নারী ফুটবলের আয় বিশ্লেষণ, এবং প্রথমবারের মতো তালিকাভুক্ত ক্লাবগুলোর গড় আয় ১০ মিলিয়ন ইউরোর উপরে পৌঁছেছে। তালিকায় ওয়িমেনস সুপার লিগ (WSL) ক্লাবগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, যা ইউরোপীয় নারী ফুটবলের আর্থিক শক্তি প্রকাশ করে।
একই সময়ে, ওয়িমেনস এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে WSL শীর্ষস্থানীয় ম্যানচেস্টার সিটি ৬-০ স্কোরে বকিনহ্যামকে পরাজিত করে। ভিভিয়ান্নে মিয়েডেমা বেঞ্চ থেকে বেরিয়ে দু’টি গোল করেন, আর খাদিজা শা, লরেন হেম্প ও লরা কুম্বসেরাও দু’টি করে গোল করে দলকে আধা-সময়ে ৪-০ নেতৃত্ব দেয়। শেষ পর্যন্ত সিটি ৬-০ দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করে।
লিভারপুলের নারী দলও একই রাউন্ডে লন্ডন বীজকে ৬-০ স্কোরে পরাজিত করে। ডেনিস ও’সুলিভান, মিয়া এন্ডারবি, মার্থা থমাস, জেমা বোনার, অ্যালিস বার্গস্ট্রম ও আলেজান্দ্রা বার্নাবে প্রত্যেকেই এক করে গোল করে দলকে সম্পূর্ণ জয় নিশ্চিত করে। উভয় ম্যাচই ক্লাবের আয় বৃদ্ধি ও ভক্তসংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেলয়েটের এই র্যাঙ্কিং নারী ফুটবলের আর্থিক প্রবণতা উন্মোচন করে, যেখানে ইউরোপীয় ক্লাবগুলো বিশেষ করে WSL দলগুলো আয় ও দর্শকসংখ্যা দু’ই ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্লাব এই তালিকায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত যখন ডেটা সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে।



