সিএবিএস নিউজের 60 মিনিট শোতে পরিকল্পিত “ইনসাইড সিইসিওটি” নামের প্রতিবেদনটি রবিবার রাতের প্রোগ্রাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই অংশটি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভেনেজুয়েলীয়দের এল স্যালভাদোরে ডিপোর্ট করার পর তাদের সিইসিওটি জেলে থাকা অবস্থার ওপর আলোকপাত করে।
প্রতিবেদনটি দেখায় কীভাবে ২০২২ সালে ট্রাম্প সরকার শত শত ভেনেজুয়েলীয়কে টেররিস্টের অভিযোগে এল স্যালভাদোরে পাঠায়, যদিও তাদের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংযোগ ছিল না। ডিপোর্টের পর এই ব্যক্তিরা সিইসিওটি নামে পরিচিত কঠোর শাস্তি জেলে আটক হয়, যা দেশের অন্যতম কঠোর কারাগার হিসেবে বিবেচিত।
ডিপোর্টের পর থেকে ভেনেজুয়েলীয়দের পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আদালতে মামলা দায়ের করে, যাতে ডিপোর্টের বৈধতা ও জেলে শর্তাবলী নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দশ মাসের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনও ডিপোর্টকৃত সকল ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিইসিওটি জেলে আটক হওয়া ব্যক্তিরা কঠোর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তারা জানিয়েছেন যে জেলের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, খাবার ও চিকিৎসা সেবা সীমিত, এবং শাস্তি প্রয়োগে অতিরিক্ত সহিংসতা দেখা যায়। এই অভিজ্ঞতা প্রতিবেদনটির মূল বিষয়বস্তু গঠন করে।
সিএবিএস এই প্রতিবেদনের প্রকাশে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা উল্লেখ করেছে। নেটওয়ার্কের বিবৃতি অনুযায়ী, 60 মিনিটের স্বতন্ত্রতা ও গল্প বলার ক্ষমতা বজায় রাখতে এই বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব সম্প্রচার করা হবে। প্রতিবেদনের সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গল্পও একই সময়ে উপস্থাপন করা হবে।
প্রাথমিকভাবে, এই অংশটি ডিসেম্বর মাসে সিএবিএসের সম্পাদক-ইন-চিফের সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছিল। বাতিলের সময়সূচি ছিল সম্প্রচারের ঠিক এক ঘণ্টা আগে, যখন প্রতিবেদনটি শেষ পর্যায়ে ছিল। বাতিলের কারণ হিসেবে অতিরিক্ত রিপোর্টিং প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।
বাতিলের পর সিএবিএসের সঙ্গে যোগাযোগে জানানো হয় যে, ডিপোর্টকৃত ভেনেজুয়েলীয়দের জেল শর্তাবলী যাচাই করার জন্য আরও তথ্য সংগ্রহ করা দরকার। এই অতিরিক্ত তথ্যের অভাবে প্রতিবেদনের সম্পূর্ণতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সম্পাদকের মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা গল্পের জন্য ক্যামেরার সামনে মন্তব্য দিতে অস্বীকার করেন, ফলে প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। মেমোতে বলা হয়েছে, “গল্পটি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত আমি এটি স্থগিত রাখি”।
সিএবিএসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরে জানিয়েছেন যে, সম্পাদকের সিদ্ধান্তের পরেও নেটওয়ার্কের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করা এবং সত্যিকারের তথ্য উপস্থাপন করা তাদের অগ্রাধিকার। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
রবিবার রাতের সম্প্রচারে এই অংশটি শেষমেশ টেলিভিশনে আসবে, যা ভেনেজুয়েলীয় ডিপোর্টের পরিণতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। দর্শকরা এই রিপোর্টের মাধ্যমে সিইসিওটি জেলের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মনোযোগ আবারও ডিপোর্ট নীতি ও কারাগার শর্তাবলীর দিকে ফিরে এসেছে। সিএবিএসের এই পদক্ষেপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জটিল রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়।



