ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ – বিশিষ্ট শিল্পপতি আহমেদ আকবর সোবহান আজ জাতীয় পর্যায়ে শিশু শিক্ষা ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, শিশুরা যেন স্বাধীন ও উন্মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব।
সোবহান তার বক্তব্যের মধ্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে শিশুরা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে, যা তাদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসকে ক্ষুন্ন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ও পারিবারিক পরিবেশে উন্মুক্ততা ও উদারতা বাড়াতে হবে, যাতে শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশ্ন করতে ও নতুন ধারণা অনুসন্ধান করতে পারে।
বক্তব্যের সময় তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে কিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন প্রার্থীর মনোনয়নকে বৈধতা প্রদান করার জন্য আর্থিক সহায়তা চায়। তিনি এ ধরনের প্রক্রিয়াকে সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে আর্থিক লেনদেনের স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সোবহানের মতে, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সমর্থনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমে সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাধারার অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার, বিশেষ করে শহুরে এলাকায় বেড়ে ওঠা শিশুরা যেসব চাপের মুখে পড়ে। সোবহান প্রস্তাব করেন, সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে মিলিতভাবে খেলাধুলা, সঙ্গীত ও শিল্পকলা কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে শিশুরা সমন্বিতভাবে বিকাশ লাভ করে।
বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোবহানের মন্তব্যকে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কারের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, যদি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়, তবে তা শিশুদের জন্য একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, কিছু সমালোচক সোবহানের ব্যবসায়িক পটভূমি ও তার রাজনৈতিক মন্তব্যের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের ইঙ্গিত দেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে রাজনৈতিক মতামত মিশ্রিত হলে তা ন্যায়সঙ্গত নীতি নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে সোবহান এই উদ্বেগের প্রতি কোনো সরাসরি উত্তর দেননি।
সোবহান শেষ করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তার সন্তানদের হাতে, তাই তাদের জন্য একটি উদার, মুক্ত ও সমর্থনশীল পরিবেশ তৈরি করা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষই এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবে।
এই বক্তব্যের পর, সরকারী প্রতিনিধিরা শিশুরা ও শিক্ষার উন্নয়ন সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, শীঘ্রই শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সংস্কার আনা হবে, যা সোবহানের প্রস্তাবিত দিকনির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সর্বশেষে, সোবহান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে স্বচ্ছতা, উদারতা এবং শিশুরা যে স্বাধীনতা পাবে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন। তার এই আহ্বান দেশের বিভিন্ন স্তরে আলোচনার সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



