ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ – রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিনের পরিচিত জাইমা রহমান আজকের এক সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে বললেন, মতবিরোধ থাকলেও দেশের কল্যাণে সবার আন্তরিকতা থাকা উচিত। তিনি এই কথা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন।
সম্মেলনটি ঢাকা শহরের একটি হোটেল কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তার বক্তব্য শোনার জন্য একত্রিত হন। জাইমা রহমানের মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের ঐক্যবদ্ধতা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
একই সময়ে তিনি নিজের নির্বাচনী মনোনয়নের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়ে দেন। পূর্বে কিছু পার্টি সদস্যের অভিযোগে তার মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা আইনগতভাবে স্বীকৃত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুরোধ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তহবিল দ্রুত প্রদান করতে।
জাইমা রহমানের এই অনুরোধের পেছনে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, তহবিলের সময়মত সরবরাহ না হলে নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।
সরকারি দলের প্রতিনিধি এই মন্তব্যের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেন। তারা জাইমা রহমানের ঐক্যবদ্ধতার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয় প্রয়োজন। তবে তহবিল সরবরাহের বিষয়ে তারা প্রক্রিয়াগত দিক থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
বিপক্ষের কিছু নেতৃবৃন্দের মন্তব্য তীব্র। তারা জাইমা রহমানের বক্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখেন, যা ভোটারদের মনোভাব গড়ে তোলার জন্য করা হয়েছে। বিশেষ করে, তিনি যে সময়ে তহবিলের দাবি করেন, তা নির্বাচনী সময়সীমার কাছাকাছি হওয়ায় কিছু সন্দেহ উত্থাপিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, জাইমা রহমানের এই ধরনের প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সাময়িক শীতলতা আনতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তা বাস্তবিক পরিবর্তন আনবে কিনা তা অনিশ্চিত। তিনি যে ঐক্যবদ্ধতার আহ্বান জানিয়েছেন, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে পার্টি গঠনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়তে পারে।
এধরনের ঐতিহাসিক উদাহরণ দেখা যায়, যখন পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পারস্পরিক বিরোধ সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে একত্রিত হয়েছে। তবে সেই সময়ের সফলতা মূলত বাস্তবিক পদক্ষেপে নির্ভরশীল ছিল, শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে নয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলার সঙ্গে সঙ্গে জাইমা রহমানের মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে। যদি তার পার্টি এই সময়ে তহবিল পায় এবং নির্বাচনী প্রচারণা কার্যকরভাবে চালায়, তবে ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই মুহূর্তে তার বক্তব্যকে রাজনৈতিক চিত্রায়ণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহে জাইমা রহমানের দল নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জন্য একাধিক সভা পরিকল্পনা করেছে। তদুপরি, ব্যাংক থেকে তহবিলের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিভাগে আবেদন করা হবে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, জাইমা রহমানের আজকের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংলাপে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আদর্শের পার্থক্য সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে সবার আন্তরিকতা বজায় রাখার আহ্বান, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয়ের জন্য একটি সূচক হতে পারে। তবে বাস্তবিক পদক্ষেপ এবং তহবিলের সরবরাহের সুষ্ঠুতা এই আহ্বানের কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।



