22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপে কমিশনের নতুন বেতন কাঠামোতে মৌলিক বেতন দ্বিগুণ, রিপোর্ট শীঘ্রই দাখিল

পে কমিশনের নতুন বেতন কাঠামোতে মৌলিক বেতন দ্বিগুণ, রিপোর্ট শীঘ্রই দাখিল

সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে মৌলিক বেতনের দ্বিগুণের প্রস্তাব পে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন মৌলিক বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে, অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা অপরিবর্তিত থাকবে; ফলে ঢাকা শহরের ২০তম গ্রেডের কর্মীর মোট বেতন প্রায় ৪২,০০০ টাকার কাছাকাছি হবে।

পে কমিশন ২৪ জুলাই গঠিত হয়, যার প্রধান হিসেবে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান নিযুক্ত হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রস্তাবনা জমা দিতে বলা হয়েছিল, তবে সময়সীমা বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। কমিশনের প্রধান জানিয়েছেন, ২১ জানুয়ারি (বুধবার) প্রধান উপদেষ্টার সময় পেয়েছেন এবং একই দিনে রিপোর্ট উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি প্রস্তাবকে “খুব ভালো” বলে উল্লেখ করে, এটি সরকারের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু সংশয় দেখা গিয়েছিল, তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ করেছে। এই অতিরিক্ত তহবিলের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বছরের শেষের দিকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনের ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর দাবি বহুদিন ধরে আলোচনার বিষয় ছিল। গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মহার্ঘ ভাতা প্রদানের দাবি তীব্র হয়। যদিও জুন মাসে নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই বিষয়ে কোনো ঘোষণা না থাকলেও, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জুলাই ১ থেকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করার ঘোষণা দেন, যা মহার্ঘ ভাতার পরিবর্তে কার্যকর হয়েছে।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুসারে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড নির্ধারিত, এবং দেশের প্রায় ১৫ লক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী এই স্কেল অনুযায়ী বেতন ও ভাতা গ্রহণ করে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেড (২০তম) এর মৌলিক বেতন দ্বিগুণ হয়ে ২০,০০০ টাকা হবে, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। সর্বোচ্চ গ্রেডের মৌলিক বেতনও ১,৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে, যা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামোকে আধুনিকায়িত করবে।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো সরকারী কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি মেধাবী কর্মীকে পাবলিক সেক্টরে রাখতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে বর্তমান সরকার এই পরিবর্তন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে কিনা, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। পে কমিশনের রিপোর্ট উপস্থাপনের পর, সংসদে আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

সামগ্রিকভাবে, পে কমিশনের সুপারিশ সরকারকে আর্থিক পরিকল্পনা ও জনসেবা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদান করতে পারে। বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় সহায়ক হবে। তবে বাস্তবায়নের সময়সূচি, বাজেটের যথাযথ বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এই পরিবর্তন শেষমেশ কী রূপ নেবে তা স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতে সরকারী নীতি নির্ধারণে এই বেতন কাঠামোর প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments